বিএনপি ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণা চালিয়ে ক্ষমতায় গিয়ে জাতির সঙ্গে প্রতারণা শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষের বিরুদ্ধে যারাই যাবে, তাদের এই দেশে থাকা হবে না। এই পথ পালানোর পথ। এই দেশের মানুষ আর দিল্লির খবরদারি মেনে নেবে না। যুবকেরা এখন প্রতিবাদ করা শিখেছে। বিএনপি হ্যাঁ ভোটের প্রচারণা চালিয়ে ক্ষমতায় গিয়ে জাতির সঙ্গে প্রতারণা শুরু করেছে। যারা হ্যাঁ প্রচারণা চালিয়ে এখন না বলছেন, তারাই একদিন এই দেশ থেকে নাই হয়ে যাবে। জনতার রায়কে অগ্রাহ্য কেউ করে অতীতে কেউ টিকে থাকতে পারে নাই। সামনেও কেউ টিকতে পারবে না।’
আজ সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া কাজী আজহার আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে মাঠে এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সাঘাটার বোনারপাড়ায় গত ২১ জুন বিএনপি ও যুবদলের নেতা-কর্মীদের হামলায় জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের দুই কর্মী আহত হওয়ার ঘটনায় এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
জামায়াতের আমির আরও বলেন, ‘বর্তমানে সব জায়গায় চুরিচামারি, লুটপাট শুরু হয়ে গেছে। চাঁদাবাজদের-দুর্নীতিবাজদের হাত বন্ধ করতে চাই। দেশের জন্য একবার না শতবার রাজপথে নামব।’
দুই শিবিরকর্মী হত্যার সমালোচনা করে বলেন, ‘আমরা চাই না, ক্ষমতার লোভে আর কোনো মায়ের কোল খালি হোক। গায়ে পারা দিয়ে ঝগড়া বাজাতে আসবেন না।’
সাধারণ মানুষের অধিকারের প্রতি হস্তক্ষেপ না করা পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী রংপুরে বেশি সংখ্যক আসন পাওয়ায় তাদের উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এটা রংপুরের মানুষ মেনে নেবে না। মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার জন্য সামনে দিকে আর হাত বাড়াবেন না, আর পা বাড়াবেন না। পরিণতি ভালো হবে না। এভাবে চললে টিকে থাকতে পারবেন না।’
গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়ারেজের সভাপতিত্বে অন্যান্যর মধ্যে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন, বগুড়া জেলা আমির আব্দুল হক, গাইবান্ধা জেলা আমির আব্দুল করিম, সাবেক আমির ডা. আব্দুর রহিম সরকার, গাইবান্ধা জেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতি ইউসুফ আল কাজামীসহ অনেকেই।
এর আগে জামায়াত আমির শহীদ শিবিরকর্মী সাইফুল্লাহ বারী ও জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিনের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে তাঁদের কবর জিয়ারত করেন।
গত ২১ জুন গাইবান্ধার সাঘাটার বোনারপাড়া এলাকায় এক হামলায় আহত হয়ে শিবিরকর্মী সাইফুল্লাহ বারী চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন রাতেই মারা যান। আর ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে গত ৮ তারিখে জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিনের মৃত্যু হয়। তাঁদের হত্যার বিচার দাবিতে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।