সব উপজেলায় সংসদ সদস্যদের জন্য সরকারিভাবে কার্যালয় প্রস্তুত করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) আদেশ দেওয়া হয়েছে বলে সংসদে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তাঁর এই বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ সংসদ সদস্যদের জন্য সরকারিভাবে গাড়ির ব্যবস্থা করে দেওয়ার দাবি জানান। তাঁর এই দাবিতে হাত চাপড়িয়ে সমর্থন জানান বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা।
পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সরকারি দল ও বিরোধী দল আলাপ-আলোচনা করে সংসদ সদস্যদের যানবাহনের বিষয়ে বিহিত ব্যবস্থা করতে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান।
আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে এসব আলোচনা হয়। এ সময় সংসদে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
গত ৩১ মার্চ জাতীয় সংসদে উপজেলা পর্যায়ে সংসদ সদস্যদের জন্য কার্যালয় করার অনুরোধ করেছিলেন এনসিপির সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান মোজাহিদ।
সব উপজেলায় সংসদ সদস্যদের জন্য কার্যালয়ের বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘সংসদ সদস্যের একটা দাবি ছিল যে তাঁরা উপজেলা পরিষদে গেলে তাদের বসবার কোনো জায়গা থাকে না। তাঁরা কোথাও বসতে পারেন না। এ ব্যাপারে কয়েক দিন আগে একজন সংসদ সদস্য দাবি করলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমাকে নির্দেশনা দেন। আমি স্থানীয় সরকার ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলামের সঙ্গে পরামর্শক্রমে প্রত্যেক উপজেলা পরিষদে দোতলায় অ্যাটাচ বাথরুম ও আসবাবপত্রসহ সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের বসবার জন্য একটি রুম প্রস্তুত করে দেওয়ার জন্য জিও ইস্যু করেছি।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, অচিরেই নতুন ভবনে এবং পুরাতন ভবনে যেখানে যে অবস্থায় আছে, সেখানেই এই কক্ষের নামটি হবে ‘পরিদর্শন কক্ষ’। কারণ, সংসদ সদস্যের নামে রুম বরাদ্দের বিধান নাই। এই কারণে পরিদর্শন কক্ষ নামে কক্ষটি থাকবে। এমপিরা ওখানে বসে তাঁদের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখাসাক্ষাৎ এবং সময় ব্যয় করতে পারবেন।
পরে হাসনাত আবদুল্লাহ ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘অন্তত বসার একটি জায়গা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘ইউএনওদের গাড়ি থাকে, উপজেলা চেয়ারম্যানদের গাড়ি থাকে। আমাদের ভাড়ায় গাড়ি চালাতে হয়। আমরা লজ্জায় এটা কাউকে বলতে পারি না। এখন আমাদের একটা বসার ব্যবস্থা করে দিছে, এখন মানুষের কাছে যাওয়ার জন্য যদি একটা গাড়ির ব্যবস্থা করে দেয়, তাইলে আমাদের জন্য একটু সুবিধা হয়, মানুষের কাছে একটু যাইতে পারি।’
পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আজ এমপিদের প্রাপ্তির পরে অপ্রাপ্তির খবরটা বলতে চাচ্ছিলাম না। প্রধানমন্ত্রী যেদিন সংসদ নেতা নির্বাচিত হয়েছেন, আমাদের পার্লামেন্টের পার্টির মিটিংয়ে প্রথমেই দুইটা অনুশাসন দিয়েছেন যে আমরা এমপিরা এই নতুন পার্লামেন্টে জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী আলাদা কোনো সুযোগ-সুবিধা নেব না। সেই হিসাবে তিনি অনুশাসন দিয়েছেন। একটা আইন আছে। এটা সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে সংসদ সচিবালয় থেকেই লিড করবে। এই আইনে আমরা একটা সংশোধনী আনব যে এই মহান জাতীয় সংসদের কোনো সদস্য আমরা ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি নেব না।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে বলেন, ‘সংসদ সদস্য (হাসনাত আবদুল্লাহ) নিশ্চয়ই অফিস পেয়ে খুশি হয়েছেন। আবার গাড়ি না পেলে নাখোশ হবেন। সেই জন্য সংসদ সদস্যদের যানবাহনের ব্যবস্থা কীভাবে কী করা যায়, সেটা আলাদাভাবে সরকারি দল ও বিরোধী দল আলাপ-আলোচনা করে একটা বিহিত ব্যবস্থা করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানাচ্ছি।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান ফ্লোর নেন। তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলেরই একজন সদস্য এই দাবিটা সামনে এনেছিলেন। ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে এটাকে কগনিজেন্সে (আমলে) নিয়ে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য আমি ধন্যবাদ জানাই। তবে একটা কথা আছে। যে ছোটদেরকে কখনো “না” বলতে নাই। তাদের আবদারে সব সময় “হ্যাঁ” বলতে হয়। হাসনাত আবদুল্লাহ (গাড়ির কথা) বলে ফেলেছে। সঙ্গে সঙ্গে (সরকারি দল) না বললে আমি বেশি খুশি হইতাম।’
পরে জামায়াতের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘বিরোধী দলের নেতা বহু আগেই বলেছেন যে আমরা ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি নেব না। আমরা কোনো প্লট নেব না।’
তাঁর এই বক্তব্যের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাদের প্রথম দিনেই অনুশাসন দিয়েছেন যে কোনো ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি হবে না, কোনো সুবিধাপ্রাপ্ত প্লট নেব না। এ ব্যাপারে যেহেতু পুরা হাউসই একমত, সে জন্য আমরা সর্বসম্মতক্রমে সিদ্ধান্ত সময়মতো নিতে পারব।’