পবিত্র ঈদুল আজহায় বিশেষ রাজনৈতিক পরিকল্পনা নিয়েছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। দল ও সরকারের বিরুদ্ধে চলমান নানা ‘অপপ্রচার’ প্রতিরোধ এবং সরকারের গত তিন মাসের উন্নয়ন বার্তা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ঈদের সময় মাঠপর্যায়ে নেতা-কর্মীদের সক্রিয় থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দলের অধিকাংশ কেন্দ্রীয় নেতা, মন্ত্রী এবং সংসদ সদস্যরা (এমপি) নিজ নিজ এলাকায় ঈদ উদ্যাপন করবেন বলে জানা গেছে।
দলীয় সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান মন্ত্রী, এমপি ও দলীয় নেতাদের জনগণের পাশে থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন। ঈদের আনন্দ সাধারণ মানুষের সঙ্গে ভাগাভাগি করার পাশাপাশি এলাকার সাংগঠনিক যোগাযোগ জোরদার করতে বলা হয়েছে। ইতিমধ্যে অনেক মন্ত্রী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় অনেক নেতা নিজ নিজ এলাকায় চলে গেছেন। অনেকে ঢাকায় ঈদের নামাজ শেষে এলাকায় রওনা দেবেন। স্থানীয় পর্যায়ে ঈদ পুনর্মিলনী, শুভেচ্ছা বিনিময় ও গণসংযোগ কর্মসূচির প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। সেখানে তৃণমূল নেতা-কর্মী ও মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি মন্ত্রী ও নেতারা সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বার্তা তুলে ধরবেন। একই সঙ্গে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলগুলোর ‘অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি’র বিষয়ে জনগণকে সতর্ক করবেন। কেন্দ্র থেকে এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও জাতীয় সংসদের হুইপ এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, ‘আমি আমার নির্বাচনী এলাকা নাটোরে জনগণের সঙ্গে ঈদ উদ্যাপন ও শুভেচ্ছা বিনিময় করব। এ ছাড়া জনগণকে দেওয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বর্তমান অবস্থা তুলে ধরব, যাতে জনগণ জানতে পারে গত তিন মাসে সরকার কী কী উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড করেছে এবং আগামী দিনের পরিকল্পনা কী। পাশাপাশি সরকারের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তা গণসংযোগের মধ্য দিয়ে জনগণের কাছে পরিষ্কার করা হবে।’
বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা মনে করছেন, ঈদের সময় বিপুলসংখ্যক মানুষ এলাকায় যায়। ফলে অনেক মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছানোর এটি বড় সুযোগ। এ কারণেই কেন্দ্রীয় নেতাদের এলাকামুখী হওয়াকে এবার বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
দলীয় সূত্র জানায়, সরকারের অনেক মন্ত্রী, বিএনপির অধিকাংশ এমপি ও নেতারা নিজ এলাকায় ঈদ উদ্যাপন করবেন। পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ তাঁরা এলাকায় আদায় করবেন এবং ঈদের ছুটির সময়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় করবেন। জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এবং ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় ঈদ করবেন। এ ছাড়া বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু নিজ নিজ এলাকায় ঈদ উদ্যাপন করবেন।
বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল বলেন, কোনো কোনো রাজনৈতিক দল জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। বিএনপির বিরুদ্ধে নানাভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এ জন্য দলীয়ভাবে লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে, যাতে জুলাই সনদ ও ভোটের বিষয়ে জনগণের মধ্যে বাস্তবতা তুলে ধরা যায়। ইতিমধ্যে সারা দেশে লিফলেট পৌঁছানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতারা এলাকায় গিয়ে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের অপপ্রচার ঠেকাতে সাধারণ মানুষের কাছে যাবেন।
বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকজন নেতা জানান, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর এটি তাঁদের দ্বিতীয় ঈদ। এর আগে গত দেড় দশকে দলের নেতা-কর্মীরা স্বাভাবিক পরিবেশে ঈদ উদ্যাপন করতে পারেননি। মামলা, হামলা ও রাজনৈতিক চাপের কারণে অনেক নেতা-কর্মী দীর্ঘদিন এলাকায় যেতে পারেননি। এখন পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে দল এখন ক্ষমতায়। ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে সরকারের মন্ত্রী, বিএনপির এমপি ও কেন্দ্রীয় নেতাদের বেশির ভাগই নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান করবেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সিনিয়র সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বর্তমান সরকারের তিন মাস অতিবাহিত হয়েছে। এই সময়ে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কতটুকু অগ্রগতি হয়েছে, তা ঈদের সময় এলাকায় এলাকায় জনগণের কাছে তুলে ধরা হবে। ঈদের সময়ে প্রত্যেকে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ করবেন, কুশল বিনিময় করবেন এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার কথা জানবেন। এ ছাড়া সম্প্রতি বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে কয়েকটি রাজনৈতিক দল সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে, সে বিষয়েও জনগণকে সতর্ক করা হবে।
পবিত্র ঈদুল আজহায় রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের নামাজ আদায় করবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য আজকের পত্রিকাকে নিশ্চিত করেছেন।
সূত্র জানায়, বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্য এবং মন্ত্রিসভার কয়েকজন সিনিয়র সদস্য এবার ঢাকায় ঈদ উদ্যাপন করবেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান এবং সমাজকল্যাণ ও মহিলা শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনিও রাজধানীতে ঈদের নামাজ আদায় করবেন।