নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কর্মসূচি বারবার পুলিশের বাধার মুখে পড়ছে। জেলা প্রশাসনের জারি করা ১৪৪ ধারা বহাল থাকায় তাদের এ পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে। তবে জেলায় নেতা-কর্মীদের গাড়িবহর ও জমায়েত ঠেকাতে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সড়কে বালুভর্তি ও খালি ট্রাক রেখে দেওয়া হয়। সেই ছবি শেয়ার করে দুই লাইনের একটি ইঙ্গিতপূর্ণ ক্যাপশন দিয়েছেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া।
আজ বুধবার সন্ধ্যার দিকে তাঁর ফেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তিনি এ পোস্ট দেন।
আসিফের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেখা গেছে, সড়কের ওপর ব্যারিকেড হিসেবে ব্যবহার করা একটি বালুভর্তি ও খালি ট্রাকের ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে ইংরেজি বর্ণে লিখেছেন—‘হিস্টোরি রিপিটস ইটসেল্ফ!’
এরপর আসিফ আরেক লাইনে লেখেন, ‘বাট দিস টাইম ইট উইল নট হোল্ড’।
হবিগঞ্জে এনসিপির জুলাই পদযাত্রায় নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় জেলাটিতে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণার পর আজ সেখানে কর্মসূচিতে অংশ নিতে যান দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ সারজিস আলম, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।
তবে জেলা প্রশাসনের জারি করা ১৪৪ ধারার কারণে বারবার পুলিশের বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাঁদের।
সর্বশেষ জানা যায়, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে হবিগঞ্জে আবার পুলিশের বাধার মুখে পড়েন এনসিপির নেতারা। সেখানে পুলিশের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যেই সড়কে বসে প্রতিবাদ জানাতে দেখা গেছে তাঁদের।
হবিগঞ্জের মিরপুর এলাকার আগেই তাঁদের গাড়িবহর আটকে দেয় পুলিশ। সেখানে গাড়ি থেকে নেমে তাঁরা সড়কে বসে পড়েন।
এর আগে শ্রীমঙ্গলে বাধার মুখে পুলিশের সঙ্গে ঘণ্টাখানেক বাগ্বিতণ্ডার পর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে হবিগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন তাঁরা।
এর আগে ১৪৪ ধারা জারির মধ্যেই আজ বুধবার বেলা ৩টার দিকে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউস থেকে হবিগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, সংগঠনটির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহসহ আরও অনেকে।
পরে শ্রীমঙ্গল শহর থেকে হবিগঞ্জে যাওয়ার পথে চা-কন্যা ভাস্কর্য এলাকায় শ্রীমঙ্গল-শায়েস্তাগঞ্জ সড়কে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাঁদের গাড়িবহর আটকে দেয়। এ সময় সড়কের দুপাশে শত শত গাড়ি আটকা পড়ে।
উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার হবিগঞ্জে এনসিপির জুলাই পদযাত্রা শেষে কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলা ও পরে প্রতিবাদ মিছিলে ফের হামলার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল-যুবদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। এ সময় ছাত্রদল ও এনসিপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ এবং পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। এতে এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
এদিন সারজিস আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশ শেষে ফেরার পথে ছাত্রদল-যুবদলের নেতা-কর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আমি ও নাসীরুউদ্দীন পাটওয়ারী এবং আমাদের হবিগঞ্জ জেলা এনসিপির সদস্যসচিব মাহবুবুল বারি মোবিন আহত হই।’
তবে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন বলেন, ‘এনসিপির নেতা-কর্মীরা আমাদের দেশনায়ক তারেক রহমান ও হুইপ জি কে গউছসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে বিরুপ মন্তব্য করে। তাদের উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে সাধারণ ছাত্র-জনতা জবাব দিয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে ছাত্রদলের কোনো নেতা-কর্মী জড়িত না।’