বিরোধী দলের কণ্ঠ স্তব্ধ করার চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জনগণের অধিকার আদায়ে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান যেভাবে লড়াই করেছেন, জামায়াতও একইভাবে লড়াই চালিয়ে যাবে। জনগণের অধিকার জনগণের হাতে ফিরে না আসা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
আজ মঙ্গলবার বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের কারামুক্তির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।
বিমানবন্দরে প্রবাসীদের দুর্ভোগের প্রতিবাদে আখতারুজ্জামানের ভূমিকা সফল হয়েছে বলে দাবি করেন শফিকুর রহমান। তিনি আরও বলেন, আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে বিমানবন্দরের দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। তিনি ট্রলির সংকটের কথা বলেছিলেন। এখন দুই দফায় ৩০০টি নতুন ট্রলি যুক্ত করা হয়েছে। লাগেজ কাটা ও চুরির অভিযোগের পর গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের শরীরে বডি ক্যামেরা সংযুক্ত করা হয়েছে। এখন ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে লাগেজ পাওয়া যাচ্ছে।
আখতারুজ্জামান জেলে থাকলেও শুধু দেশের মানুষ নয়, প্রবাসীরাও তাঁর গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ করেছেন উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বিভিন্ন দেশে সভা-সমাবেশ, মিছিল এমনকি দূতাবাস ঘেরাও করে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। প্রবাসী ও সাধারণ যাত্রীদের জন্য তাঁর প্রতিবাদের সুফল এখন পাওয়া যাচ্ছে।
শফিকুর রহমান আরও বলেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাঁকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। নিম্ন আদালত থেকে জামিন না দিয়ে তাঁকে হাইকোর্ট পর্যন্ত যেতে হয়েছে। হাইকোর্টে জামিন পাওয়ার পর আবার চেম্বার আদালতে নেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনা সরকারের জন্য লজ্জাজনক।
সরকারের পাহাড়সম ব্যর্থতা, অযোগ্যতা ও অদক্ষতা আড়াল করতে বিরোধী দলকে অপপ্রচারের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, বিরোধী দলের চরিত্র হননের চেষ্টা না করে সরকারের উচিত মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দূর করার দিকে মনোযোগ দেওয়া। অতীতের মতো স্বৈরাচারী কায়দায় প্রতিবাদী কণ্ঠ দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে বাংলাদেশের মানুষ তা মেনে নেবে না।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান বলেন, ‘জেলে যাওয়া স্বাভাবিক। তবে আমার কারাবরণের মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকারের ভেতরের চিত্র এবং তাদের আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। সরকার বলেছিল, তারা আক্রোশের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। অথচ প্রবাসীদের সঙ্গে বিমানবন্দরে দুর্ব্যবহার, অব্যবস্থাপনা ও ভোগান্তির প্রতিবাদ করায় আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
আখতারুজ্জামান আরও বলেন, নিম্ন আদালতে জামিন না পাওয়ার পর হাইকোর্ট থেকে জামিন দেওয়া হয়। এরপর রাষ্ট্রপক্ষ চেম্বার আদালতে যায়। এভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চাইলে বাংলাদেশের মানুষ তা মেনে নেবে না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁরা রুখে দাঁড়াবেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে ভাবতে হবে।
গত ১ অক্টোবর সকালে মদিনা থেকে জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ জন প্রতিনিধি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। এ সময় লাগেজ সংগ্রহের সময় ট্রলির সংকট ও জমজমের পানি পেতে দেরি হওয়া নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের বাগ্বিতণ্ডা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা ও এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে আখতারুজ্জামানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজীব।
পরদিন ২ অক্টোবর বিকেলে রাজধানীর সেনানিবাস এলাকার বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রিমান্ড শেষে ৪ অক্টোবর ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে দায়রা আদালতেও জামিন আবেদন নাকচ হলে তিনি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। এরপর ১ নভেম্বর হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান।