আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহল গভীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির। আজ সোমবার বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে ১১ রাষ্ট্রদূতের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের কাছে এ কথা জানান তিনি।
রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠকে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে তারা বেশ এক্সসাইটেড। নির্বাচনের পরিবেশ নিয়েও তারা সন্তুষ্ট। বাংলাদেশের মানুষ নির্বাচন নিয়ে যেমনটা ভাবছে, তারাও ঠিক তেমন। তারাও অপেক্ষা করছে। বাংলাদেশ একটা নতুন দিগন্তের দিকে যাবে বলে তাদের প্রত্যাশা।
আজ সোমবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ দিন সকালে প্রথমে বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক করেন কানাডিয়ান হাইকমিশনার অজিত সিং। এরপর বিকেলে নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ও সন্ধ্যায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারের নেতৃত্বে আরও ৯ রাষ্ট্রদূত তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন।
এসব বৈঠকে বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন, বিএনপি চেয়ারম্যানের প্রেস সচিব সালেহ শিবলী উপস্থিত ছিলেন।
সন্ধ্যায় রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বিএনপির চেয়ারম্যানের বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন দলের যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির। বৈঠকের আলোচনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মহলের বিবেচনায় তারেক রহমান এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা। আজকের সূচিতে ১১ জন রাষ্ট্রদূত উনার সঙ্গে দেখা করেছেন। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে এসব সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।’
অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আগামীতে বিএনপি সরকার গঠন করলে কী ধরনের উন্নয়ন পরিকল্পনা উনি (তারেক রহমান) নিচ্ছেন, তাঁর সেই উন্নয়ন ভাবনা এবং ৩১ দফার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। উনার উন্নয়ন পরিকল্পনায় কী কী বিষয় থাকছে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’
নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো দেশের কোনো নির্দেশনা আছে কি না—জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘৫ আগস্টের পরে বাংলাদেশ এমন এক দেশ, এই দেশকে কেউ নির্দেশনা দিতে পারবে না। অন্য দেশের নির্দেশনায় বাংলাদেশের মানুষ চলে না। আর এই বাংলাদেশ আর কখনো ফিরে আসবে না। চেয়ারম্যান সাহেব (তারেক রহমান) আলোচনা করেছেন—কীভাবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়ন করা যায়। বাণিজ্য-বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কীভাবে আগামীতে এই সমস্যা সমাধান করা যায়।’