‘গণবিপ্লবী উদ্যোগ’ নামের নতুন একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম আত্মপ্রকাশ করেছে। এই প্ল্যাটফর্মের পাঁচজন প্রাথমিক প্রতিনিধির নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করা দুজন কেন্দ্রীয় নেতা আরিফ সোহেল ও খান মুহাম্মদ মুরসালীন। আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে এই প্ল্যাটফর্মের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটে।
গণবিপ্লবী উদ্যোগের অন্যতম উদ্যোক্তা ও প্রাথমিক প্রতিনিধি আরিফ সোহেল বলেন, ‘চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের হাজারো শহীদ ও আহত ভাই-বোনদের নিদারুণ আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে আমরা ইতিহাসের এক নতুন সন্ধিক্ষণে এসে উপনীত হয়েছি। গত দেড় বছরে দমন-পীড়ন ও বৈষম্যহীন জনগণের রাষ্ট্র নির্মাণের রক্তস্নাত স্বপ্ন বাস্তবায়নে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার পথ ধরে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে রাজনৈতিক ক্ষমতার পুনর্বিন্যাস হতে যাচ্ছে। অথচ বৃহত্তর জনগণ ও শহীদ, গাজিদের আকাঙ্ক্ষার প্রায় কিছুই বাস্তবায়িত হয়নি। শাসন-শোষণের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিককাঠামো এখনো বহাল রয়ে গেছে। কিন্তু একই সঙ্গে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান এই লড়াকু প্রজন্মকে দিয়েছে শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে লড়ার নতুন শিক্ষা। এই পরিপ্রেক্ষিতে “গণবিপ্লবী উদ্যোগ” গঠন করা হয়েছে।’
প্ল্যাটফর্মটির অন্যতম উদ্যোক্তা ও প্রাথমিক প্রতিনিধি খান মুহাম্মদ মুরসালীন জানান, গণবিপ্লবী উদ্যোগ একটি গণমুখী রাজনৈতিক প্রক্রিয়া। তাঁরা একটি প্রকৃত জনগণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন করতে চান।
আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক প্রতিনিধি তানজিনা তাম্মিম হাফসা, আব্দুল্লাহ সালেহীন অয়ন ও ফারজানা আক্তার চারুলতা। তাঁরা বলেন, ‘আমরা, গণতান্ত্রিক বিপ্লবীগণ তাঁরাই, যাঁরা ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, ১৮৫৭-এর সিপাহি জনতার মহা বিদ্রোহ, নীল বিদ্রোহ, ৪৭-এর মুক্তিসংগ্রাম, ৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ ও ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানসহ সব গণসংগ্রামের সিলসিলায় সরাসরি গণবিরোধী শক্তির মোকাবিলা করে এবং শাসন-শোষণের জালেমি ব্যবস্থা পুরোপুরি উৎখাত করার লক্ষ্যে গণসংগ্রাম সংগঠিত করার রাজনৈতিক কর্তব্যকে ধারণ করি ও চর্চা করি।’
উদ্যোক্তারা বলেন, ‘আমরা একটি প্রকৃত জনগণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন করতে চাই, যা যেকোনো বৈদেশিক আগ্রাসন ও আধিপত্যবাদকে মোকাবিলা করতে পারবে এবং বৈশ্বিক মজলুমের লড়াইয়ের একটি ঘাঁটি অঞ্চল হিসেবে কাজ করবে।’