দীর্ঘ ২২ বছর পর রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে আয়োজিত বিশাল জনসভায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, বিএনপি আগামী নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে আয়োজিত এই নির্বাচনী জনসভায় তিনি আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন নিয়ে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণকে সতর্ক থাকারও আহ্বান জানান।
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার আগেই মাদ্রাসা মাঠ ছাপিয়ে জনস্রোত শহরের আশপাশের রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে। কানায় কানায় পূর্ণ এই জনসভায় তারেক রহমান কেবল রাজনৈতিক হুঁশিয়ারিই দেননি, বরং বিএনপি সরকার গঠন করলে উত্তরাঞ্চলের জন্য তাঁর উন্নয়ন দর্শনের এক মহাপরিকল্পনা বা ‘রোডম্যাপ’ তুলে ধরেছেন।
রাজশাহীর জনসভায় তারেক রহমানের বক্তব্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে কৃষি খাতের সংস্কার। কৃষকদের ঋণ মওকুফের পাশাপাশি তিনি আরও কয়েকটি বড় ঘোষণা দেন: কৃষকদের জন্য বিশেষ ‘কৃষি কার্ড’ এবং দুস্থ পরিবারের নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে। রাজশাহী অঞ্চলে কৃষিনির্ভর শিল্প-কারখানা গড়ে তুলতে উদ্যোক্তাদের সব ধরনের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
এ ছাড়া শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চালু করা বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্পকে (বিএমডিএ) পুনরায় সচল ও আধুনিকায়ন করার কথা জানান তিনি।
রাজশাহীর উন্নয়নে তারেক রহমানের বক্তব্যের অন্যতম বিষয় ছিল ভারতের ফারাক্কার বিপরীতে ‘পদ্মা ব্যারাজ’ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি। তিনি বলেন, ‘আমরা পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের কাজে হাত দিতে চাই। এটি নির্মিত হলে পুরো উত্তরাঞ্চলের চিত্র বদলে যাবে এবং সেচ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে।’
বক্তব্য শেষে তারেক রহমান রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ধানের শীষ প্রতীকের ১৩ জন সংসদ সদস্য প্রার্থীকে মঞ্চে জনগণের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। হাস্যরসাত্মকভাবে তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের কাজ হলো ১২ তারিখ পর্যন্ত এই প্রার্থীদের দেখে রাখা, আর ১৩ তারিখ থেকে এঁরা আপনাদের দেখে রাখবে।’
রাজশাহীর জনসভা শেষ করে বিকেলে তিনি নওগাঁর জনসভায় যোগ দেন এবং রাতে বগুড়ায় নিজের নির্বাচনী এলাকায় বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে।