কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরে দরবার শরিফে উগ্রবাদী হামলা ও পীর আব্দুর রহমান শামিমকে হত্যার ঘটনার পরপরই নেটওয়ার্ক ফর পিপলস একশনের (এনপিএ) একটি প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এনপিএর সদস্য অনিক রায় ও মেঘমল্লার বসু সরেজমিনে সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন, শোকসন্তপ্ত পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে আলোচনা করে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন।
পরিদর্শনকালে তাঁরা জানতে পারেন, ঘটনার পরও এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি এবং অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। ভুক্তভোগী পরিবার এখনো ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় রয়েছে, যার ফলে তারা মামলা করতে সাহস পাচ্ছে না—যা আইনের শাসনের জন্য গভীর উদ্বেগজনক।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে এনপিএর প্রতিনিধিদল আরও জানতে পারে, গত শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই এই হামলার প্রস্তুতি শুরু হয়। পরদিন গতকাল শনিবার সকালে বৈঠক করে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয় এবং দুপুরে সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালানো হয়। এই হামলায় শুধু সংশ্লিষ্ট গ্রামের লোকজনই নন, পাশের গ্রামের লোকজনও অংশ নেন—যা ঘটনাটির সুস্পষ্টভাবে পরিকল্পিত ও সংগঠিত চরিত্রকে নির্দেশ করে।
এনপিএ মনে করে, এ ধরনের প্রকাশ্য ও পূর্বপরিকল্পিত সহিংসতার পরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো কোনো দৃশ্যমান তদন্ত কার্যক্রম শুরু না হওয়া ও কাউকে গ্রেপ্তার না করা চরম উদাসীনতার পরিচায়ক। এতে অপরাধীদের মধ্যে দায়মুক্তির সংস্কৃতি আরও জোরদার হচ্ছে এবং ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বিশেষভাবে উদ্বেগজনক হলো—একটি এত বড় ও সংগঠিত হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশ হামলাকারীদের চিহ্নিত করার কাজও শুরু করেনি বলে জানা গেছে। এই ধীরগতি ও নিষ্ক্রিয়তা শুধু বিচারপ্রক্রিয়াকেই বাধাগ্রস্ত করছে না, বরং ভবিষ্যতে এ ধরনের সহিংসতা পুনরাবৃত্তির ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এনপিএ জোর দিয়ে বলছে, ভুক্তভোগী পরিবার যাতে ভয়মুক্ত পরিবেশে মামলা করতে পারে, সে জন্য রাষ্ট্রকে অবিলম্বে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে হবে।
এনপিএ মনে করে, এ ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা না গেলে তা দেশে আইনের শাসনের প্রতি মানুষের আস্থা আরও ক্ষুণ্ন করবে এবং উগ্রবাদী সহিংসতাকে উৎসাহিত করবে। তারা ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের সোচ্চার অবস্থান অব্যাহত থাকবে।