হোম > রাজনীতি

সিইসির সামনে নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ফাইল ছবি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সামনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেছেন, আরেকটি গণ-অভ্যুত্থান হলে প্রথমেই নির্বাচন কমিশনে হাত দেওয়া হবে যাতে এই প্রতিষ্ঠানটিকে আপাদমস্তক পরিবর্তন করা যায়।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের সম্মেলন কক্ষে আজ সোমবার রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসির (আরএফইডি) নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক ও বিদায়ী কমিটির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ অভিযোগ করেন নাসীরুদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় বিগত নির্বাচনে চরম ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা কারচুপি হয়েছে অভিযোগ করে তিনি এর তীব্র সমালোচনা করেন এবং এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িতদের ভবিষ্যতে বাংলাদেশের মাটিতে বিচার করার অঙ্গীকার করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিইসিসহ চার নির্বাচন কমিশনর, জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুর উদ্দিন আহম্মেদ অপু, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন।

হামিদুর রহমান আযাদকে ইলেকশান ইঞ্জিনিয়ারিং করে হারানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, ‘এখানে তো অনেকে অনেক পজিটিভ কথা বললেন, কিন্তু এটা টোটালি একটা ইঞ্জিনিয়ারড ইলেকশন ছিল। এটাতে আপনারা অনেকে রাগ করবেন, নির্বাচন কমিশন প্রধান এখানে আছেন, হয়তোবা এই বক্তব্যের পরে এই অফিসে আমারে ঢুকতে দেবে কি না এটা জানি না। তবে ইনশা আল্লাহ আরেকটা গণ-অভ্যুত্থান হলে প্রথমেই আমি এটাতে হাত দেব, যাতে নির্বাচন কমিশনটা আপাদমস্তক, অর্থাৎ গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত পরিবর্তন করব। আমার ফার্স্ট টার্গেট হবে এটা।’

নির্বাচনে দ্বিমুখী নীতির অভিযোগ এনে নাসীরুদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, ‘আমি একজন প্রার্থী হিসেবে এই ইলেকশনে যেটা দেখেছি, আমি নির্বাচন কমিশনে ফোন দিয়েছিলাম। উনারা মামুনুল হকের আসনে একটা নির্দেশনা দিয়েছিলেন যে বক্সের বাইরে যদি সিল পড়ে সেটা কাউন্ট হবে না, কিন্তু আমার আসনে নির্দেশনা দিয়েছিলেন যে বক্সের বাইরে যদি সিল পড়ে সেটা কাউন্ট হবে। সেখানে নির্বাচনের দিন ডিজিএফআই, এনএসআই এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা থেকে শুরু করে কীভাবে ডিসি অফিসে নগ্নভাবে একটা ইলেকশনের ইঞ্জিনিয়ারিং করতে পারে, সেটা এই বাংলাদেশ দেখেছে। সে রিপোর্টগুলো আমরা বিভিন্ন জায়গায়, ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটির কাছেও দিয়েছি।’

ঋণখেলাপিদের ছাড় দেওয়ার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনারদের সমালোচনা করে নাসীরুদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, ‘সম্মানিত কমিশনার সানাউল্লাহ ভাই আছেন, উনি বলেছেন, অনেক দুঃখ-কষ্ট, হৃদয় নিয়ে তাদের অ্যাপ্রুভাল দিয়েছি। কেন, আপনার দুঃখ-কষ্ট থাকলেই তো আপনি সংবিধান লঙ্ঘন করতে পারেন না। এটা আপনার একটা কমিটমেন্টের জায়গা, আপনি তাদেরকে ছাড় দেবেন না। কিন্তু লোকাল গভর্নমেন্টে আমরা আশা করব যে আপনারা এই ধরনের কোনো অ্যাক্টিভিটিজে যদি যান, সেটাতে হয়তোবা রাজপথের পরিস্থিতি খুবই উত্তপ্ত হবে।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনের ঘটনা উল্লেখ করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘সেই সময়ে যখন আফরোজা আব্বাস নির্বাচন কমিশনের সামনে, ওই বিভাগীয় কমিশনার অফিসের সামনে পাঁচ থেকে ছয় হাজার লোক নিয়েছিলেন, আমি ডাক দিলে সেখানে পঞ্চাশ হাজার থেকে এক লাখ লোক আসত। তাহলে একটা রক্তাক্ত মারামারি হইতো, অনেকগুলো লাশ পড়ত। আমি শুধু একটা কারণে সরে আসছি যে যদি ওই হসপিটালে যাইয়া যেই বাবার ছেলেটা মারা যেত, আমি তাকে কোনো জবাব দিতে পারতাম না, এ জন্য আমি সরে আসছি। ইনশা আল্লাহ এটা কিন্তু বাংলাদেশে বিচার হবে। এই নির্বাচন কমিশনের যারা এই নির্বাচনে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের বিচার ইনশা আল্লাহ ভবিষ্যতে আমরা বাংলার মাটিতে করব।’

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে সতর্কবার্তা দিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, ‘লোকাল গভর্নমেন্ট ইলেকশনে যদি এর থেকে কোনো বাজে পরিস্থিতি হয়, সেটার বিরুদ্ধে আমরা শক্ত প্রতিবাদ করব। আমরা এখানে বাই কনস্টিটিউশন দেশের জন্য কাজ করতেছি। আমরা নির্বাচন কমিশনের প্রধানের বাসায় যাব, খাব, এটা পার্সোনাল সম্পর্ক। যারা নির্বাচন কমিশনার আছেন, আপনারা আমাদের দোয়া দেবেন, আমরা আপনাদের দোয়া দেব। কিন্তু যখন আপনারা একটা চেয়ারে আছেন, সে চেয়ার ধরে আমরা কথা বলব। আর আমি এখানে যখন কথা বলছি, আমি ব্যক্তি নাসীরুদ্দীন হিসেবে কথা বলছি না, আমি এনসিপির একজন প্রতিনিধি হয়ে কথা বলছি। আমরা যেটা বিশ্বাস করি, সে বিশ্বাসটা বাংলাদেশে ইনশা আল্লাহ বাস্তবায়ন করব। অপু ভাই আছেন, উনার সাথে তো অনেক আগে কথা হয়েছে। তো ভাই, আপনারাও দেখবেন যে লোকাল গভর্নমেন্টটা যাতে সুষ্ঠুভাবে হয়। লোকাল গভর্নমেন্ট যদি সুষ্ঠুভাবে না হয়, সেটাতে কিন্তু রাজপথ আমরা আবারও বলছি, ভয়াবহ তপ্ত হবে।’

সাংবাদিকদের সাহসী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে নাসিরউদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, ‘সাংবাদিক ভাইয়েরা, আপনারা সবচেয়ে টাফেস্ট জব এই নির্বাচন কমিশনে করে থাকেন এবং আপনাদের চোখ কিন্তু ফাঁকি দেওয়া যায় না। এখানে কে দুর্নীতিগ্রস্ত আর কে চোর, বাটপার, গুন্ডা আছে, সবগুলোই আপনারা জানেন। কিন্তু আপনারা হয়তোবা মালিক পক্ষের চাপ বা অন্যান্য চাপে এগুলো বলতে পারবেন না। কিন্তু আশা করব যে একটা সময়ে যারা ‘রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস’ বা এই ধরনের ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন আছে, সেগুলোর সঙ্গে আপনারা কানেক্টেড হবেন। আমরাও সে জায়গায় প্রচেষ্টা করব আপনাদের কানেক্ট করিয়ে দেওয়ার জন্য। আরেকটি অর্গানাইজেশন আছে, প্রোটেক্ট জার্নালিস্ট (সিপিজে), তারা কিন্তু সাংবাদিকদের নিরাপত্তা দিয়ে থাকে।’

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, ‘কোনো সাংবাদিক যদি সত্যিকারের সাংবাদিক হতে চায়, তাদের ইন্টারন্যাশনাল নিরাপত্তা আছে। আমরা ইন্টারন্যাশনালি সে জায়গাগুলো কানেকশন বিল্ডআপ করছি। ইনশা আল্লাহ আশা করি যে, বাংলাদেশের সাংবাদিক জগৎকে আমরা নতুন করে সাজাব এবং আপনাদের সংবাদের মধ্য দিয়ে নেপালের নির্বাচন কমিশনের চেয়ে আমাদের নির্বাচন কমিশনটা ভালো হবে, সে প্রত্যাশা রাখছি।’

ঢাকার দুই সিটিতে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করল ইসলামী আন্দোলন

জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির আট দিনব্যাপী কর্মসূচি

শাহ আলী মাজারে অপ্রীতিকর ঘটনায় ছাত্রশিবিরকে জড়ানোর প্রতিবাদ

দেশের অর্ধেক লোককে বাদ দিয়ে সংবিধান সংশোধনী টিকবে না: জি এম কাদের

কারিনা কায়সারের মৃত্যুতে এনসিপির শোক

‘উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে’ চাপিয়ে সরকার মাজারে হামলার দায় এড়াতে পারে না: তুষার

শিক্ষা খাতে জিডিপির ৬ শতাংশ বরাদ্দসহ তিন দফা দাবি ছাত্র ইউনিয়নের

আওয়ামী লীগ ফিরলে প্রথম গুলি চালাবে তারেক রহমানের ওপর: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

কুমিল্লাবাসীর দাবি বিভাগ ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

২০২৭ সালের শুরুতে এনসিপির কাউন্সিল