রাজধানীতে সুবিধাবঞ্চিত নারী, শিশু ও শ্রমজীবী মানুষের সম্মানে এক ব্যতিক্রমী ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ)। আজ শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে জেডআরএফের কার্যালয়ে এই আয়োজনে উপস্থিত হয়ে আর্তমানবতার সেবায় নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন ফাউন্ডেশনের শীর্ষ নেতারা।
ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব ডিরেক্টরস ও উপদেষ্টামণ্ডলীর এই সম্মিলনে প্রধান অতিথি ছিলেন ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জেডআরএফের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনার।
এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল সমাজের অবহেলিত মানুষের সঙ্গে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করা এবং ইফতারের আনন্দ ভাগ করে নেওয়া। এতে ঢাকা-১৭ আসনের ভাষানটেক, কড়াইল বস্তিসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার সুবিধাবঞ্চিত নারী ও শিশুরা উপস্থিত ছিল।
এ ছাড়া জেডআরএফের ডিরেক্টরদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, সৈয়দা তাজনিন ওয়ারিস সিমকী, অধ্যাপক লুৎফর রহমান, ব্যারিস্টার মীর হেলাল, অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মো. শামীম, শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ, ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম, প্রকৌশলী আলমগীর হাছিন আহমেদ, প্রকৌশলী উমাশা উমায়ন মনি চৌধুরী প্রমুখ।
ইফতারের আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জুবাইদা রহমান নারী ও শিশুদের সামগ্রিক উন্নয়নের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো সুবিধাবঞ্চিত নারীদের স্বাবলম্বী করে তোলা। নারীরা যখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবে, তখনই একটি সমাজ সত্যিকার অর্থে উন্নত হবে। শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলাই আমাদের ফাউন্ডেশনের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার।’ শিশুরা আগামী দিনে বড় হয়ে যেন নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে পারে, সে জন্য বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় একটি ভাষা শেখার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন জুবাইদা রহমান।
জুবাইদা রহমান আরও বলেন, নারীদের পরিবার ও সামাজিক উন্নয়নের কেন্দ্রে রাখা হবে। বিএনপি সরকার বিশ্বাস করে, নারীর মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হলে জাতীয় উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায় অর্জন সহজ হবে। দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানে যাতে অগ্রাধিকার পাওয়া যায়, সে কারণে মাধ্যমিক পর্যায় থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য তৃতীয় ভাষা প্রয়োগ এবং কারিকুলামে কারিগরি শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলেও জানান জুবাইদ রহমান।
জুবাইদা রহমান দেশের চলমান প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বার্তা দেন। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনী ইশতেহারে বিএনপি জনগণের কল্যাণে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেগুলো এখন পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী জনস্বার্থে দেওয়া সেসব প্রতিশ্রুতি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করবেন, যা দেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্যবদলে সহায়ক হবে।
অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনার বলেন, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন কেবল একটি সংগঠন নয়, এটি মানবতার সেবায় এক নিরন্তর পথচলা। অতিথিদের আন্তরিকতা ও মমতাময় অংশগ্রহণে ইফতার মাহফিলটি ভালোবাসা ও সম্প্রীতির এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়। তিনি জানান, প্রতি ১৫ দিন অন্তর কড়াইল বস্তি ও সাততলা বস্তিতে জীবানুনাশক স্প্রে করা হবে।
পরিশেষে, দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি সমাপ্ত হয়।