বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ যে অপকর্ম করেছে, তা আমরা আমাদের দলের লোককে করতে দেব না।’ তিনি বলেন, ‘আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, আমার দলের কোনো লোক যদি কোনো ধরনের দুর্বৃত্তায়ন বা অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকে, আমাদের জানাবেন। আমরা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেব।’
ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ আসনে আজ রোববার নির্বাচনী জনসংযোগের তৃতীয় দিনে এক পথসভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি নিজ দলের নেতা-কর্মীদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, আমার দলের কোনো লোক যদি কোনো ধরনের দুর্বৃত্তায়ন বা অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকে, আমাদের জানাবেন। আমরা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেব। আওয়ামী লীগ যে অপকর্ম করেছে, আমার দলের লোককে আমরা তা করতে দেব না।’
জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে আমরা এই দাঁড়িপাল্লা মার্কা দেখেছি। তারা সেদিন পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করেছিল এবং আমাদের মা-বোনদের তাদের হাতে তুলে দিয়েছিল। এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য।’
ঠাকুরগাঁও অঞ্চলে জামায়াতের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘নৌকা আর ধানের শীষকে সবাই চেনে, কিন্তু দাঁড়িপাল্লাকে এই অঞ্চলের মানুষ সেভাবে চেনে না। জামায়াত পুরোনো দল হলেও আমাদের সঙ্গে তাদের পার্থক্য বিশাল। বিএনপি একটি পরীক্ষিত দল, যারা পাঁচবার সুনামের সঙ্গে সরকার চালিয়েছে।’
প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সততা ও খালেদা জিয়ার ত্যাগের কথা স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা রাজনীতি করে সম্পদ বাড়াইনি, বরং বাপ-দাদার জমি বিক্রি করে রাজনীতি করেছি। আপনাদের আমানত নিয়ে আমরা খেয়ানত করব না।’
গত দেড় দশকের রাজনৈতিক নিপীড়নের চিত্র তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘গত ১৫ বছর আমরা পুলিশের তাড়া খেয়েছি। আমাদের এমন কোনো কর্মী নেই, যার বিরুদ্ধে মামলা হয়নি। প্রায় ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছিল। আমার নিজের বিরুদ্ধে ১১১টি মামলা এবং ১১ বার জেলে যেতে হয়েছে। দেশনেত্রী ৬ বছর জেলে ছিলেন এবং তারেক রহমান ১৮ বছর দেশে ফিরতে পারেননি।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এখন আমরা মুক্ত বাতাস পাচ্ছি। আমাদের দায়িত্ব এখন সুন্দর দিন তৈরি করা, হানাহানি বা পাল্টা মামলাবাজি করা নয়। এটি কোনো আপস নয়, বরং ভ্রাতৃত্ববোধের নতুন সমাজ তৈরি করা।’
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনারা নিজেরা শক্ত হন, বুকে সাহস আনুন। প্রতিরোধ গড়ার মানসিকতা তৈরি করুন। আপনার ভোট আপনি যাকে খুশি দেবেন, এর জন্য কেন নির্যাতনের শিকার হতে হবে?’
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে আবারও জামায়াতের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বলেন, ‘দাঁড়িপাল্লা মার্কাকে আপনারা চেনেন? ১৯৭১ সালে তারা কী করেছিল, তা আমাদের মনে আছে। তাই যখন সিদ্ধান্ত নেবেন, ভেবেচিন্তে সঠিক সিদ্ধান্তটিই নেবেন।’