হামলা করে ও মিথ্যা মামলা দিয়ে গত ছয় সপ্তাহে বিএনপির ২৩ হাজার নেতা-কর্মীকে কারারুদ্ধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। আজ শনিবার সকালে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
মঈন খান বলেন, ‘আজকে আমরা বাংলাদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছি এবং বাংলাদেশের কোটি মানুষকে সম্পৃক্ত করেছি। আমরা শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক, নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে বিশ্বাসী। আমরা লগি-বইঠার রাজনীতি করি না। বিএনপি লগি-বইঠার রাজনীতি করে না। শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়ায় এ দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনব, সেই কারণে রাজপথে আছি।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রবীণ এই নেতা বলেন, ‘এই সরকার ভুয়া মামলা দিয়ে আমাদের গণতন্ত্রকামীদের কারারুদ্ধ করে এই দেশে তারা থাকতে পারবে না। এই দেশের মানুষ তাদের বর্জন করেছে।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তারা রাজনৈতিক মামলা দিয়ে কারারুদ্ধ করে রেখেছে। আমাদের মহাসচিবকে তারা গায়েবি মামলা দিয়ে কারারুদ্ধ করে রেখেছে। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে মামলা দিয়ে বিদেশে আটকে রেখেছে, তিনি দেশে ফিরতে পারছেন না।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশের মানুষ জেগে উঠেছে। তারা জানে এই দেশে কোনো ধোঁকাবাজি করে কেউ সরকারে থাকতে পারবে না। আগামীতে শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে এই সরকারকে অপসারিত করে বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও সুশাসন ফিরিয়ে আনব। মানবাধিকার ফিরিয়ে আনব।’
মঈন খান বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতে চাই, বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ এই সরকারকে প্রত্যাখ্যান করেছে। এই সরকারের নৈতিক পরাজয় ইতিমধ্যেই হয়েছে। আরও একটি নির্বাচনের তফসিল দিয়েছে। কোন নির্বাচন? যে নির্বাচনে তারা প্রকাশ্যে সব লজ্জা ভুলে গিয়ে প্রকাশ্যে দর-কষাকষি করে তারা সিট ভাগাভাগি করছে। এটার নাম গণতন্ত্র হতে পারে না। যদি সিট ভাগাভাগি করে এমপি নির্বাচিত হয়, তাহলে তো এই নির্বাচন ইতিমধ্যে ব্যর্থ হয়ে গেছে।’