নানা উপায়ে নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড (সবার জন্য সমান সুযোগ) নষ্ট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেছেন, ‘আমরা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছি। অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এ নির্বাচনে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে, একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের মাধ্যমে প্রতিটি রাজনৈতিক দল সমান সুযোগ পাবে—এটিই জনগণের প্রত্যাশা। তবে গত কয়েক দিন ধরে আমরা দুঃখজনকভাবে দেখেছি, নানা উপায়ে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট করা হচ্ছে। একটি বিতর্কিত নির্বাচনপ্রক্রিয়া সৃষ্টি হতে যাচ্ছে।’
রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কার্যালয়ে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন এসব অভিযোগ করেন।
কোনো দলের নাম উল্লেখ না করে দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র বলেন, ‘একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য ধর্মীয় অনুভূতির ক্রমাগত অপব্যবহার চালিয়ে যাচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, আমরা গণমাধ্যমে দেখলাম, তাদের মার্কায় ভোট দিতে পবিত্র কোরআন ছুঁয়ে শপথ করানো হচ্ছে, যা সরাসরি নির্বাচন আচরণবিধির লঙ্ঘন। শুধু তা-ই নয়, আমরা দেখেছি, সেই বিশেষ রাজনৈতিক দলটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের জাতীয় পরিচয়পত্র ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে, যার পেছনে অসাধু উদ্দেশ্য রয়েছে।’
এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাহরাইন, ওমান ও কাতারে পোস্টাল ব্যালটের ভাইরাল হওয়া ভিডিও নিয়েও কথা বলেন তিনি।
মাহদী আমিন বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কিছু দেশে শত শত ব্যালট একটি নির্দিষ্ট দলের কর্মীদের কাছে রয়েছে, যা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সংঘবদ্ধ ভোট সম্পূর্ণ বেআইনি। কোথাও কোথাও একজনের নম্বর দিয়ে আরেকজনের পোস্টাল ব্যালট পেপার সংগ্রহ করা হচ্ছে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত। যেহেতু বাংলাদেশে প্রবাসীদের ভোটদান প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে, আমরা চাই, প্রবাসীদের ভোটের ক্ষেত্রেও সমতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা হোক।’
পোস্টাল ব্যালটে প্রতীক সজ্জা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘আমরা দুঃখজনকভাবে লক্ষ করেছি, পোস্টাল ব্যালটের ক্ষেত্রে ধানের শীষের অবস্থান নিচের দিকে, যা সহজে খুঁজে পাওয়া যায় না। এমনকি ভাঁজ করলে ধানের শীষ প্রতীক চোখে পড়ে না কিংবা দাগের কারণে মুছে যেতে পারে। অথচ প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতীককে কৌশলে সহজে দেখা যায়—এমন জায়গাগুলোতে রাখা হয়েছে। চাইলেই খুব সহজে কলাম বা লাইনের সংখ্যা পুনর্বিন্যাস করে প্রতীকের অবস্থানগত এ বৈষম্য দূর করে পোস্টাল ব্যালটকে স্বচ্ছ রাখা যেত।’
মাহদী আমিন বলেন, গত ১৬ বছরে ফ্যাসিবাদী আমলের গুম, খুন, হামলা ও মামলার সময়ে বিএনপির কয়েকজন প্রার্থী দেশের বাইরে ছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই তাঁদের সেখানে নাগরিকত্ব হয়েছিল এবং মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁরা তাঁদের নাগরিকত্ব প্রত্যাহারের আবেদন করেন। সেই আবেদনপত্র থাকার পরও নির্বাচন কমিশনে দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে জটিলতা তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অথচ সংবিধানের ৬৬ ধারা অনুযায়ী, সেখানে কোনো অপ্রয়োজনীয় বিতর্কের অবকাশ নেই।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন বলেন, ‘আমরা দেখেছি, বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল তাদের প্রতীকসহ সরাসরি নিজ নিজ প্রার্থী ও দলের জন্য ভোট চাইছেন বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এবং অনলাইনে। অথচ বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ব্যক্তিগত সফরে তাঁর নানির কবর জিয়ারত কিংবা মাওলানা ভাসানী অথবা গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদসহ অন্যান্য শহীদের কবর জিয়ারতে বগুড়া ও উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায় যেতে চাইলেও সেই ব্যক্তিগত সফরকে স্থগিত করার জন্য নির্বাচন কমিশন থেকে অনুরোধ করা হয়েছে। সেই অনুরোধের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি তাঁর নির্ধারিত সফর বাতিল করলেও অন্য দল ও নেতারা প্রতিনিয়ত আচরণবিধি লঙ্ঘন করে যাচ্ছেন। নির্বাচন কমিশনের এই নির্লিপ্ততা অনাকাঙ্ক্ষিত।’