যমুনায় নৈশভোজ
বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্র পরিচালনায় বিগত সময়ের মতো আগামী দিনেও পাশে চেয়েছেন শরিক দল ও জোটগুলোকে। তারাও বিএনপির সরকারকে উন্নয়নমূলক কাজে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।
রাজধানীতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় শরিক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও নৈশভোজের আয়োজন করেন বিএনপির চেয়ারম্যান। প্রতিটি টেবিল ঘুরে ঘুরে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন তিনি। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সরকার গঠনের পর মিত্রদের অনেকের সঙ্গেই সম্পর্কটা ভালো যাচ্ছিল না বিএনপির। প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির গরমিলে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক অনেক দল ও জোটের সঙ্গেই দলটির দূরত্ব ও টানাপোড়েন দেখা দেয়। সেই প্রেক্ষাপটে সরকার গঠনের পাঁচ মাস পর শরিকদের সঙ্গে টানাপোড়েন দূর করতে এ উদ্যোগ নেন তারেক রহমান।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী সরকারের পতনের আন্দোলনে শরিক ৪১টি দলের নেতাদের এই আয়োজনে আমন্ত্রণ জানানো হয়। ভোটের আগে বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফা, জুলাই সনদ এবং সরকারের ৫ মাসে নেওয়া নানা পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের বলেন, ‘১৫-১৬ বছর ধরে যাঁরা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের সঙ্গে রাজপথে যুগপৎ আন্দোলন করেছেন, তাঁদের ত্যাগ ও অবদান স্মরণীয়। অনেকেই কারাগারে গেছেন, মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন, গুম ও খুনের শিকার হয়েছেন। এই আয়োজনে এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে।’
ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রূপরেখা নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, যুগপৎ আন্দোলনের ৩১ দফা পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং যৌথভাবে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদের’ প্রতিটি অঙ্গীকার অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি মহিউদ্দিন ইকরাম প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং বিএনপি নেতা বরকতউল্লা বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, আবদুল আউয়াল মিন্টুসহ শীর্ষ নেতারা।
অনুষ্ঠান শেষে বেরিয়ে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটা একটা শুভেচ্ছা বিনিময়ের অনুষ্ঠান ছিল। আমার কাছে মনে হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী এখন ক্ষমতায় আছেন। যারা ক্ষমতায় নাই, এমন কাছের লোকগুলো যাতে দূরে সরে না যায়, তাদের কাছে আনার একটা আয়োজন করেছেন।’
আয়োজনে শরিক কয়েকটি দলের কয়েজন নেতা বক্তব্য দেন জানিয়ে মান্না বলেন, ‘তাঁদের মনে যা আছে, তাঁরা তা-ই বলেছেন। কেউ কেউ বলেছেন, তাঁরা ক্ষমতার অংশীদার হতে চান।’
মান্না আরও বলেন, ‘আমরাও চাই ভালো কিছু হোক। আমরা সেই বাংলাদেশ চাই, রক্ত দিয়ে যে নতুন বাংলাদেশ আমরা গড়তে চেয়েছিলাম। আপনারা যেমন প্রশংসার ভাগীদার হবেন, তেমনি ভুলের দায়ও আপনাদের নিতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী পাঁচ মাসের সরকারকে নিয়ে মূল্যায়ন জানতে চেয়েছেন। এই সময়ে কী কী সমস্যা হয়েছে, জানতে চেয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে শরিকদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক হবে বলা হয়েছে। আমরা আশা করি, এটা যেন কথার কথা না থাকে।’
আমন্ত্রণ জানানো হলেও বেশ কিছু রাজনৈতিক দল এই আয়োজনে অংশ নেয়নি বলে জানা গেছে। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন জানান, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে তাঁরা যমুনার নৈশভোজে যাননি।
একইভাবে দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে অনুষ্ঠানে অংশ নেয়নি জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দীর নেতৃত্বাধীন অংশটি।