বছরের ৩৬৪ দিন সবাই শ্রমিকদের দাবিগুলো ভুলে থাকলেও পয়লা মে দরদি ও আন্তরিক হয়ে ময়দানে নেমে পড়ে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, শ্রমিকদের প্রয়োজন ও মর্যাদাকে উপেক্ষা করে কোনো সমাজ টেকসই হতে পারে না।
আজ শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ ফটকে আয়োজিত এক শ্রমিক সমাবেশে শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন। ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে এই সমাবেশের আয়োজন করে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিদেশে অনেক কষ্ট করে প্রবাসীরা টাকা আয় করেন। সেই টাকা দিয়ে তাঁরা বিদেশে প্রাসাদ না বানিয়ে দেশে পাঠান। তবে এই রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের যথাযথ মর্যাদা দেওয়া হয় না। বিদেশে মিশন, হাইকমিশন, অ্যাম্বাসি বা বড় বড় কর্মকর্তা থাকলেও প্রবাসীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। তাঁরা পাসপোর্ট রিনিউ করতে গেলে দালালদের খপ্পরে পড়ে বিড়ম্বনার শিকার হন। সংগত বা অসংগত কারণে কেউ চাকরি হারালে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর কেউ থাকে না।’
প্রবাসীদের দাবির বিষয়ে ঠিকমতো কথা বলা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ‘প্রবাসীদের মর্যাদা যেন নিশ্চিত করা হয়। তাঁদের প্রয়োজনে যেন দেশ এবং সরকার পাশে দাঁড়ায়। যেসব দেশে অ্যাম্বাসি প্রবাসীদের সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করতে না পারে, সেখানে অ্যাম্বাসি থাকার দরকার নেই। অ্যাম্বাসির কাজ কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে লালন-পালন করা নয়, দেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষা করাই তাদের কাজ।’
শ্রমিক দিবস প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, ‘শিকাগোর বেদনাদায়ক ঘটনার ১৪০ বছর পার হয়েছে। প্রতিবছর সারা বিশ্বে শ্রমিক দিবস পালিত হয়। জাতিসংঘ এটিকে আন্তর্জাতিক দিবসের স্বীকৃতি দিয়েছে। বিভিন্ন দেশে শ্রমিক সমাবেশগুলোতে সরকারি দল, বিরোধী দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নিয়ে শ্রমিকদের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবের আশ্বাস দেন। ১৪০ বছরে তাদের দেওয়া ওয়াদার ১০ ভাগের ১ ভাগও যদি পূরণ করা হতো, তাহলে শ্রমিকদের আর কোনো দাবিদাওয়া অবশিষ্ট থাকত না।’
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘দুনিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে যাঁরা নিজেদের বামপন্থী বলে দাবি করেন, তাঁরা শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে বেশি সংগ্রাম করেন। এখন বাংলাদেশ, তার আগে পাকিস্তান ধারাবাহিকভাবে এটি চলে আসছে। যখনই কোনো ইস্যু আসে, বাম দলের নেতা-নেত্রীরা সামনে এসে দাঁড়িয়ে যান। তারপরে আন্দোলন দানা বেঁধে ওঠে, মাঠ গরম হয়, কিছু মানুষের জীবন যায়, কিছু মানুষ আহত হয়। আর কিছু মানুষের চাকরি যায়। কিন্তু নেতা-নেত্রীরা রাতের আঁধারে তাঁদের ভাগটা পেয়ে যান, ভাগ পেয়ে তাঁরা সন্তুষ্ট হয়ে যান। তখন গড়ে ওঠা আন্দোলনকে তাঁরা ব্ল্যাকমেলিং করেন। এভাবে যুগ যুগ ধরে নেতা-নেত্রীর কপালের পরিবর্তন হলেও সাধারণ শ্রমিকদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি।’
জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘তাঁরা (বামপন্থী নেতা) আবার শ্রেণি-সংগ্রামের আওয়াজ তোলেন। তাঁরা বলেন, শ্রেণিশত্রু খতম করতে হবে। শত্রু কারা? শত্রু হচ্ছে মালিকপক্ষ। আচ্ছা মালিকও যদি না থাকে, তাহলে শ্রমিকটা কাজ করবে কোথায়? আমরা ওই খতমের রাজনীতিতে বিশ্বাসী না। আমরা পারস্পরিক শ্রদ্ধা, মর্যাদা, ভালোবাসার রাজনীতিতে বিশ্বাসী।’
জামায়াত আমির বলেন, মালিক শ্রমিকের ওপর ইনসাফ করলে শ্রমিক কাজ করবেন। তবে মালিক যদি শ্রমিককে ঠকান, তাহলে ওই শ্রমিক নিজের সর্বোচ্চ উজাড় করে মালিকের জন্য কিছু করবেন না। এতে উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংসদীয় রাজনীতিতে সংসদ হবে সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু। বিরোধী দল গালগল্প করা বা ইতিহাসের মাস্টার হতে সংসদে যায়নি। সেখানে বিরোধী দল গেছে দুঃখী মানুষের পক্ষে কথা বলতে। শ্রমিকদের অধিকারের বিষয়ে সংসদের ভেতরে ও বাইরে লড়াই চলবে। শ্রমিকদের ন্যায্যতা ও মর্যাদা যত দিন প্রতিষ্ঠিত না হবে, তত দিন লড়াই অব্যাহত থাকবে।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, নায়েবে আমির আ ন ম শামসুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ প্রমুখ।