চুক্তি বা ‘কন্ট্যাক্ট’ করে ওয়াজ মাহফিলে যাওয়া বন্ধ করার জন্য বক্তা ও আলেমদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।
গতকাল সোমবার (২৭ জুলাই) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরিন আয়োজিত ঢাকা বিভাগীয় মুফাসসির সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘কন্ট্যাক্ট করে ওয়াজ মাহফিলে যাওয়া বন্ধ করতে হবে। এটা ভালো কাজ নয়। এরকম লোকের ওয়াজে মানুষের লাভ হবে না। আমাদের বক্তব্যের চূড়ান্ত একটা টার্গেট থাকা দরকার, সেটা হলো দ্বীনকে বিজয়ী করা।’
সম্মেলনে উপস্থিত দুই শতাধিক আলেমের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষ আলেমদের পছন্দ করে এবং বর্তমান জাতীয় সংসদে মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিত একটি বড় অংশের প্রতিনিধি রয়েছেন।’
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ভোট প্রসঙ্গে জামায়াত ইসলামীর এই সংসদ সদস্য দাবি করেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ জামায়াতে ইসলামীকে পছন্দ করছে, নইলে ভোট দিল কেন? ১৯৯১ সালে যখন বিএনপি সরকার গঠন করে তখন তারা ভোট পেয়েছিল শতকরা ৩১ ভাগ, আর জামায়াত এবার ভোট পেয়েছে এককভাবে শতকরা ৩২ ভাগ। এই দেশে আগামী দিনে দ্বীনের বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।’ ভবিষ্যতে ওলামায়ে কেরাম ও মুফাসসিরিনে কেরামই সেই পতাকাবাহী হবেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় উলামা বিভাগীয় কমিটির সভাপতি মাওলানা আব্দুল হালিম আলেমদের পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ি ও উসকানিমূলক বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, ‘আজকে আলেমদের মধ্যে কেউ বলে যে অমুকের কাপড় তুলে ফেলছি, তারপর বলে জবাই করে ফেলব। কেউ বলে আলিয়ার জননী, কেউ বলে কওমি জননী। যে কথাগুলো বললে মানুষ আমাদের ওলামায়ে কেরাম মনে করে না, আমরা এসব দিক থেকে সতর্ক থাকব।’
তিনি আরও বলেন, সমাজ ও মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের স্বার্থে আলেমদের দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত।
অনুষ্ঠানে আগত অন্য বক্তারা উল্লেখ করেন, আলেমদের মধ্যকার বিভেদ সমাজে বিভ্রান্তি ও ফিতনা সৃষ্টি করে। কোনো সুনির্দিষ্ট ঘরানার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সব আলেমকে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা। অন্য আলেমদের বিরুদ্ধে গীবত বা বিদ্বেষ না ছড়িয়ে এই সংগঠনকে আলেম সমাজের একটি যৌথ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাওলানা নুরুল আমিন, তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. খলিলুর রহমান মাদানী, মুফতি আলী হাসান উসামা এবং বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরিনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ।
আলোচনা সভার পূর্বে সম্মেলনে উপস্থিত সদস্যদের ভোটাভুটির মাধ্যমে বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরিনের ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলার সভাপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।