হোম > মতামত > সম্পাদকীয়

শবে বরাত আত্মশুদ্ধির মহিমান্বিত রজনী

সম্পাদকীয়

আজ পবিত্র শবে বরাত। ফারসি ‘শব’ মানে রাত আর ‘বরাত’ মানে মুক্তি; অর্থাৎ শবে বরাত হলো জাহান্নাম থেকে গুনাহগার বান্দার মুক্তির রাত। হিজরি বর্ষপঞ্জির শাবান মাসের ১৪ তারিখ মুসলিম উম্মাহ শবে বরাত পালন করে থাকে। হাদিসের ভাষ্যমতে, এই রাতে মহান আল্লাহ প্রথম আসমানে নেমে আসেন এবং সৃষ্টির প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন। তিনি ঘোষণা করেন—আছে কি কেউ ক্ষমা চাওয়ার, যাকে আমি ক্ষমা করব? আছে কি কেউ রিজিক চাওয়ার, যাকে আমি রিজিক দেব?

এ রাতে আগামী এক বছরের মানুষের রিজিক, জন্ম, মৃত্যু অর্থাৎ নির্ধারিত ভাগ্যলিপি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে ফেরেশতাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তাই এই রাতটি যেমন ইবাদতের, তেমনি জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার এক সুবর্ণ সুযোগ। সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে রাতটি পালিত হয়। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মসজিদে ও বাড়িতে নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার, দোয়া, দান-সদকার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে সচেষ্ট থাকেন। রাতের শেষ প্রহরে সেহরি খেয়ে পরের দিন নফল রোজা রাখা শবে বরাতের অন্যতম আমল।

তবে এই মহিমান্বিত রাতেও একদল মানুষ আল্লাহর অসীম রহমত থেকে বঞ্চিত হয় বলে সতর্ক করেছেন হজরত মুহাম্মদ (সা.)। হাদিসে এসেছে, ‘আল্লাহ তাআলা অর্ধশাবানের রাতে মুশরিক এবং বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন।’ (সহিহ ইবনে হিব্বান) এই হাদিস থেকে স্পষ্ট হয় যে এই রাতে ক্ষমা পাওয়ার প্রধান শর্ত হলো অন্তরকে শিরকমুক্ত রাখা এবং অন্যের প্রতি হিংসা বা শত্রুতা পোষণ না করা। তাই শবে বরাতে প্রয়োজন নিজের মনকে পবিত্র করা এবং মানুষের প্রতি বিদ্বেষ ঝেড়ে ফেলা; সম্প্রীতির হাত বাড়িয়ে দেওয়া।

শবে বরাতকে কেন্দ্র করে আমাদের সমাজে প্রচলিত কিছু প্রথা যেমন—অতিরিক্ত আলোকসজ্জা, হালুয়া-রুটির ধুম বা আতশবাজি ফোটাতে দেখা যায়। ইসলামবিষয়ক গবেষকদের মতে, এসব আনুষ্ঠানিকতার চেয়ে একনিষ্ঠ ইবাদত অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আতশবাজি ও উচ্চ শব্দে পটকা ফোটানো ইবাদতরত মানুষ ও অসুস্থ মানুষদের চরম কষ্টের কারণ হয়, যা ইসলামি শরিয়তে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ ছাড়া ইবাদতের ক্ষেত্রে সামাজিক প্রদর্শনী থেকে বিরত থাকা জরুরি।

শবে বরাতের প্রকৃত শিক্ষা হলো আল্লাহর দিকে ফিরে আসা এবং ইবাদতে একনিষ্ঠতা বাড়ানো। অতীতের সব অন্যায়, দুর্নীতি, জুলুম ও পাপাচার থেকে ফিরে আসার দৃঢ় অঙ্গীকারই এ রাতের সার্থকতা। আমরা যদি ব্যক্তিজীবনে হিংসা ত্যাগ করতে না পারি এবং অন্যের হক নষ্ট করা থেকে বিরত না হই, তবে কেবল রাত জাগা ইবাদতে মুক্তি মিলবে না। পবিত্র শবে বরাতের আলোকচ্ছটায় আমাদের ব্যক্তিগত ও জাতীয় জীবন সুন্দর হোক, সমাজ থেকে দূর হোক সব কলুষতা, দেশে নেমে আসুক অনাবিল শান্তি—এই আমাদের প্রত্যাশা।

কৃষকের মাথায় হাত

দুটি বাস ও জীবনের গল্প

নির্বাচনী সহিংসতা

কর্মহীন শ্রমিক

পিডিবিকে বাঁচাতে হবে

কানে ধরা

মার্ক টালি

‘আমরা যদি বড় হতাম...’

শিশুর প্রতি পাশবিকতা কেন

দুই নম্বরি