ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোর ক্যানটিন নিয়ে কত যে লেখালেখি হয়েছে, তার ইয়ত্তা নেই। কিন্তু পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। আজকের পত্রিকার প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, খাবারে পোকা, ব্লেড, কেঁচোও পাওয়া যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্বভাবসিদ্ধ ভাষায় বলছে, ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, কঠোর নজরদারি চলবে ইত্যাদি। কথা হচ্ছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হলের খাবার খেয়ে পুষ্টিহীনতায় যেমন ভুগছেন, তেমনি ভয়ংকর সব ব্লেড, কেঁচোও আবিষ্কার করছেন প্লেটে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর খাদ্যের মান কি কোনোকালে বলার মতো ভালো ছিল? যখন কাউকে হলের ডালের কথা জিজ্ঞেস করা হয়েছে, তখন যে উত্তর পাওয়া গেছে, তা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। বাথরুমের কলের পানি আর হলের ডালের মধ্যে পার্থক্য থাকে সামান্যই। ডাল নামক কোনো পদার্থ সেই ডালে খুঁজতে হয় দুরবিন নিয়ে। আর মাছ-মাংস? সেটা খুঁজতে হয়তো অণুবীক্ষণ যন্ত্রের প্রয়োজন হয়। কত ধরনের পরিবর্তন ঘটে গেল ক্যাম্পাসে। কত অঙ্গীকারের কথা শোনা গেল। শেষ পর্যন্ত দেখা গেল, পরিবর্তন নামক বস্তুটি পরিবর্তিত হয়ে কেঁচো, ব্লেড আর পোকায় পরিণত হয়েছে। প্রশাসন আর হল সংসদ বলছে, তারা ব্যবস্থা নিচ্ছে। কিন্তু শুকনা মুখের কথায় শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের চিড়া ভিজছে না।
এবার একটু কড়াভাবে আলোচনা শুরু করা যাক। যে প্রশ্ন এড়ানো যাবে না, তা হলো, আমরা শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাবারের মান নিয়ে কথা বলছি না, একই সঙ্গে খাদ্যনিরাপত্তা, শিক্ষার্থীদের পুষ্টি, প্রশাসনের জবাবদিহি এবং ক্যানটিন ব্যবস্থাপনার কাঠামোগত সমস্যা নিয়ে কথা বলছি। প্রতিবেদনে আছে, একেকটা ঘটনার পর ক্যানটিনের মালিক বা পরিচালকদের জরিমানা করা হচ্ছে। কিন্তু এটা কোনো স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। খাবারের মধ্যে ব্লেড বা কেঁচো আসা বন্ধ হবে কী উপায়ে, সেটি খুঁজে বের করা দরকার সবার আগে। আর পুষ্টিগুণ আসবে কোথা থেকে, তা দেখার জন্য দরকার স্বাধীন খাদ্য পরিদর্শন কমিটি। যদি তা থেকে থাকে, তাহলে প্রশ্ন হলো, তাদের কাজ আসলে কী? আর না থেকে থাকলে, কবে হবে সেটা?
যে কাজটি ঠিকমতো করা হয় না, তা হলো ক্যানটিন ইজারা দেওয়ার সময় কম দামের কথা মনে রাখা হলেও খাদ্যের মানে ছাড় দেওয়া হয়। কম দামে খাদ্য সরবরাহ করার অঙ্গীকার করা হয় ইজারা পাওয়ার জন্য, কিন্তু উচ্চ মুনাফার জন্য সেই ইজারাদার আপস করেন খাদ্যের মানের সঙ্গে। ব্যাপারটি আমরা বারবার দেখে আসছি। পুষ্টির নির্দিষ্ট মান বজায় রাখতে কী কী করতে হবে, তা নিশ্চয়ই জানা আছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। সপ্তাহের একটি পুষ্টিকর মেনু নির্ধারণ যেমন দরকার, তেমনি দরকার সেই মেনু অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা দেখা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যেন পুষ্টিকর খাবার পান কেঁচো আর ব্লেডের বদলে। সে জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে।