মুরগি, গরু, খাসি—যেকোনো মাংসের চাপ সুস্বাদু বটে। তবে অতিরিক্ত কাজের চাপ যেমন জীবনে কোনো ‘মজা’ যোগ করে না, তেমনি পানির চাপও চরম বিপদের কারণ হয়। ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট, শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে হয়ে যাওয়া টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার পানির চাপ সেই প্রমাণ দিচ্ছে। ৯ আগস্ট আজকের পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, হালুয়াঘাটের ধারা-নালিতাবাড়ী পাকা সড়কের ভূগর্ভস্থ মাটি সরে একটি অংশ ভেঙে গেছে এই পানির চাপে। ফলে দুর্ভোগে পড়েছে হালুয়াঘাট ও নালিতাবাড়ী উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ।
বর্ষাকালে বৃষ্টি হবে, পানি জমবে—এটা স্বাভাবিক। কিন্তু সেই স্বাভাবিক বৃষ্টির পানির চাপে যদি পাকা সড়ক ভেঙে যায়। তাহলে প্রশ্ন উঠতেই পারে, সড়কটি আসলে কতটা পাকা ছিল? সড়কের নিচের মাটি সরে গিয়ে যোগাযোগ বন্ধ হয়েছে। মানুষের যাতায়াতের বিকল্প হিসেবে শেষ পর্যন্ত তৈরি হয়েছে বাঁশের সাঁকো, যেন আধুনিক সড়কব্যবস্থার সঙ্গে গ্রামবাংলার পুরোনো দিনের সেতুবন্ধন।
ধারা, ধুরাইল, কৈচাপুর ও আমতৈল ইউনিয়নের মানুষের নালিতাবাড়ীর সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এই সড়ক। একইভাবে নালিতাবাড়ীর কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষ হালুয়াঘাটে যাতায়াতে এটি ব্যবহার করে। ফলে সড়কটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শুধু যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়নি; শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ মানুষের দৈনন্দিন জীবন বিপাকে পড়েছে। অটোরিকশাচালকেরা ভাঙনস্থলে এসে আটকে পড়ছেন। দুই-তিন কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প কাঁচা রাস্তা ব্যবহার করতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়কের পাশে কার্যকর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই। ফলে বৃষ্টির পানি জমে থাকে এবং একপর্যায়ে পানির চাপে সড়কের নিচের মাটি সরে গিয়ে ধস নামে। সড়ক নির্মাণের সময় পানি নিষ্কাশনের মতো মৌলিক বিষয়টি বিবেচনায় না নেওয়া অব্যবস্থাপনা তো বটেই, সঙ্গে এটি জননিরাপত্তার প্রতি অবহেলা বলতে হয়।
একটি সড়কের এমন পরিণতি যেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে না দাঁড়ায়। উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় অবশ্য বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছে বলে জানিয়েছে এবং ঘটনাস্থলে কর্মকর্তাও পাঠিয়েছে। এখন নিশ্চয়ই দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে। কিন্তু সাময়িকভাবে ভাঙা অংশ জোড়াতালি দিয়ে ঠিক করার পর কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। নানা সময় এ ধরনের খবর প্রকাশিতও হয়। তাই মনে শঙ্কা জাগে, সড়ক ভাঙার পর কি শুধু মেরামত করা হবে, নাকি সড়ক ভাঙার কারণটিও দূর করা হবে? তা না হলে পরের বর্ষায় আবার পানি জমবে, আবার মাটি সরে যাবে, আবার সড়ক ভাঙবে, তারপর আবার মেরামত হবে। এই চক্র যেন না চলতে থাকে, সেই প্রত্যাশা রইল। এই চাপ নিশ্চয়ই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সামলে নেবে।
জনগণের টাকায় নির্মিত অবকাঠামোকে টেকসই করতে হলে দ্রুত সড়কটি মেরামতের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা, সড়কের ভিত্তির মান এবং নির্মাণকাজের গুণগত মান পরীক্ষা করা জরুরি। না হলে বাঁশের সাঁকোই হয়তো হয়ে উঠবে আমাদের সড়ক উন্নয়নের টেকসই প্রতীক।