হোম > মতামত > সম্পাদকীয়

শুরু হয়ে গেছে

সম্পাদকীয়

জাতীয় সংসদ নির্বাচন সবে শেষ হয়েছে। যখন এই সম্পাদকীয় লেখা হচ্ছে তখনো শপথ গ্রহণ করেনি নবনির্বাচিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এর মধ্যেই শুরু হয়ে গেছে! কী শুরু হয়ে গেছে? মারধর! বিএনপির অঙ্গসংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতা এক শিক্ষককে মেরেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পাঠক, দৃশ্যটি কল্পনা করলেই বুঝতে পারবেন, চেনা চেনা লাগে, যেমনটা হয় একই গল্পে ভিন্ন অভিনেতাদের অভিনয়ে দুটি ভিন্ন সিনেমা!

১৪ ফেব্রুয়ারি ছিল ভালোবাসা দিবস। সেই সঙ্গে স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস। আবার পয়লা ফাল্গুনও। এতগুলো দিবস একসঙ্গে পালন করতে অনেকে হিমশিম খেতে পারেন। যেমনটা খেয়েছেন বরিশালের উজিরপুর উপজেলার হারতা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম ফরাজী। সেদিন বিকেলে তাঁর নেতৃত্বে হারতা স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক উত্তম কুমারের ওপর হামলা করা হয়। এরপর তাঁকে একটি নির্মাণাধীন ঘরের ভেতর নিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়। স্থানীয়রা এসে ওই শিক্ষককে উদ্ধার করেন। আর এই মারধরের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এ নিয়ে আজকের পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে একটি প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে।

প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, উত্তম কুমারের সঙ্গে এক নারীর ঘনিষ্ঠতার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা তাঁকে মারধর করেন। নেতার দাবি, চার মাস আগে এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে ওই শিক্ষকের ঘনিষ্ঠতার ছবি ছড়িয়ে পড়ে। তাই তিনি উত্তমকে ‘শাস্তি’ তথা উত্তম-মধ্যম দিয়েছেন! এদিকে শিক্ষকের দাবি, ওই নারী তাঁর ছাত্রী নন বরং উভয় পরিবারের সম্মতিতে তাঁদের বিয়ের কথাবার্তা চলছিল। কে বা কারা তাঁদের ছবি ছড়িয়ে দিয়েছে, এ ব্যাপারে তাঁর কিছু জানা নেই।

যাই হোক, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ফরাজী যে ‘শাস্তি’ দিলেন, তা কেন ঘটনার চার মাস পরে দিলেন, সেটা বোধগম্য নয়। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তিনি ‘শাস্তি’ দেওয়ার কে? তিনি কি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্য নাকি বিচারক? তাঁর কাছে কেউ অভিযোগ করেছেন কি না, এ ব্যাপারটিও তিনি স্পষ্ট করেননি। আর ঘনিষ্ঠতার ছবি ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় যদি ভুক্তভোগী কেউ অভিযোগ করেন, তাহলে তাঁকে সেই অভিযোগ তো করতে হবে থানায়। পুলিশ আইন অনুযায়ী তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে এবং আদালত বিচার করবেন। সেখানে স্বেচ্ছাসেবক দলের একজন নেতার কাজ কি আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া? নাকি তিনি তাঁর প্রভাব জানান দিতে এহেন কাণ্ড করেছেন?

দাপট দেখাতে এ ধরনের ঘটনা আমরা আগেও বহুবার ঘটতে দেখেছি। ‘জোর যার মুলুক তার’ প্রবাদে বিশ্বাসীদের একদিন যে পতন হয়, সেই উদাহরণও আমরা পেয়েছি। বিএনপির শপথ গ্রহণের আগেই যখন কর্মীদের এই মনোভাব, তখন শপথের পর তাঁরা কী রূপ নিয়ে সমাজে চলবেন, তা ভেবে আতঙ্কিত হওয়াটা স্বাভাবিক। আমরা কোনোভাবেই চাই না প্রভাব বিস্তারের সংস্কৃতি ফিরে আসুক। প্রত্যাশা থাকবে, বিএনপি দলের নেতা-কর্মীদের করা অন্যায়-অপরাধকে একবিন্দু ছাড় দেবে না।

সহিংসতা

মাত্র সাত

সুষ্ঠু নির্বাচনের সংস্কৃতি

নির্বাচন-পরবর্তী প্রত্যাশা

আজ ভোট উৎসব

নিছক ছোট একটি ঘটনা

নির্যাতন

পর্যটন বনাম জীবিকা

৫৫ শতাংশ ভোট

ভোটের মাঠে সহিংসতা