হোম > মতামত > সম্পাদকীয়

হাম কি অপ্রতিরোধ্য

সম্পাদকীয়

২০ জুন এক দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এই সম্পাদকীয় লেখা পর্যন্ত সারা দেশে হাম এবং এর উপসর্গ নিয়ে মোট ৬৭৭ শিশু মারা গেছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৫৮৪ এবং নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ৯৩ শিশু।

আমাদের দেশে এ ধরনের মৃত্যুর ঘটনাগুলো জনমানসে একসময় স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়; সেটা সড়ক দুর্ঘটনা হোক বা হামে শিশুমৃত্যুর ঘটনা হোক। আমরা হয়তো সংখ্যা দিয়ে ব্যাপারগুলোকে বোঝার চেষ্টা করি। কিন্তু যাঁদের সন্তান এভাবে মৃত্যুবরণ করে, শুধু তাঁরাই বুঝতে পারেন—কী হারিয়েছেন।

যে রোগ সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য এবং যার প্রতিষেধক বছরের পর বছর বিনা মূল্যে সরকারিভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে, সেই রোগে শিশুর মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটি শুধু স্বাস্থ্য খাতের একটি দুর্বলতাই প্রকাশ করে না, বরং সামগ্রিক রাষ্ট্রীয় জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার ফাঁকফোকরগুলোকে অত্যন্ত নির্মমভাবে আমাদের সামনে হাজির করছে।

রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে হাম নির্মূলের জন্য ‘সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি’ চলমান থাকলেও এর কার্যকারিতা ও বাস্তবায়নে বড় ধরনের গলদ রয়ে গেছে। বিশেষ করে দেশের দুর্গম অঞ্চল, চরাঞ্চল, পাহাড়ি এলাকা এবং শহরের বস্তিগুলোতে টিকাদানের হার এখনো লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক নিচে। অনেক সময় দেখা যায়, কাগজে-কলমে টিকাদানের যে লক্ষ্যমাত্রা বা পরিসংখ্যান দেখানো হয়, মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র তার চেয়ে ভিন্ন। জনসচেতনতা তৈরির অভাব এবং টিকাদান ক্যাম্পেইনগুলোর সঠিক তদারকি না থাকায় শিশুদের একটি বড় অংশ টিকার আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছে। মাঠপর্যায়ে কঠোর নজরদারির অভাবই মূলত এ জন্য দায়ী।

অন্যদিকে হামের চিকিৎসায় একধরনের প্রচ্ছন্ন অবহেলা ও তীব্র সংকট বিদ্যমান। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে হাম নিয়ে এখনো নানা কুসংস্কার ও অবৈজ্ঞানিক ধারণা প্রচলিত রয়েছে। হাম হলে শিশুকে চিকিৎসকের কাছে না নিয়ে কবিরাজি চিকিৎসা বা ঝাড়ফুঁকের আশ্রয় নেওয়ার প্রবণতা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে দক্ষ জনবল এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। হামের কারণে শিশুরা যখন নিউমোনিয়া বা ডায়রিয়ার মতো মারাত্মক জটিলতায় আক্রান্ত হয়, তখন উপজেলা বা জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে সময়মতো আইসিইউর সেবা না পেয়ে অনেক শিশুর মৃত্যু ঘটে। চিকিৎসকদের একাংশের মধ্যে হামের লক্ষণ দ্রুত শনাক্তকরণ এবং এর পরবর্তী জটিলতা ব্যবস্থাপনায় ঘাটতিও এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে।

এই প্রাণঘাতী পরিস্থিতি থেকে শিশুদের রক্ষা করতে হলে আমাদের এখনই সুনির্দিষ্ট এবং কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। টিকাদান কর্মসূচিকে শতভাগ নিখুঁত করতে হবে।

কোনো শিশু যেন টিকার আওতা থেকে বাদ না পড়ে, সে জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে তদারকি এবং ‘ড্রপআউট’ শিশুদের খুঁজে বের করার বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চালু করা জরুরি। শিশুদের জীবন নিয়ে এই অবহেলা আর চলতে দেওয়া যায় না।

মন্ত্রী ও ঝকঝকে হাসপাতাল

এমপির মুক্তিযোদ্ধা পরিবার

দুদক

চরিত্র

ওমরাহ

মাটি কাটা

নাঈমকে হেনস্তা

অভাগা রাইয়ান

বাজেটে জনগণের লাভ-ক্ষতি

একটি ক্লিকে