হোম > মতামত > সম্পাদকীয়

লাখ হয়ে গেল ৪০০

সম্পাদকীয়

প্রতিবেদনটি দেখে মনে পড়ে গেল মধ্যযুগে রচিত এ রকম দুটি পঙ্‌ক্তি: ‘লাখে লাখে সৈন্য মরে কাতারে কাতার, শুমার করিয়া দেখি পঞ্চাশ হাজার।’ বাস থেকে জব্দ করা হয়েছিল ইয়াবা। বিশাল একটি ব্যাগে ভরা ছিল এই ইয়াবা। কিন্তু ভোজভাজির মতো সেই লাখ লাখ ইয়াবাভর্তি ব্যাগটি ৪০০ পিসের ইয়াবার ব্যাগ হয়ে গেল। সগর্বে পুলিশ জানাচ্ছে, ‘সব কুছ ঝুট হ্যায়! কিসের লাখ ইয়াবা, এই তো, ৪০০ পিস!’ অর্থাৎ ওই লাখে লাখে সৈন্য মরার কাহিনি! লাখে লাখে সৈন্য মরার পর তো ‘শুমার’ করে দেখা গিয়েছিল ৫০ হাজার সৈন্যের হিসাব তবু পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু বাস থেকে উদ্ধার করা ইয়াবা লাখ থেকে ৪০০-তে নেমে এল, এ বড্ড বেশি হাস্যকর ব্যাপার! একটা গল্পও বানাতে জানে না এই আত্মসাৎকারীরা। আর জানলেও তা এত বেশি স্থূল যে লোপাট করার ষড়যন্ত্র টিকে থাকতে পারল না!

ঘটনা থেকে যা জানা যাচ্ছে, তাতে ইয়াবা আত্মসাতের জন্য আটঘাট বেঁধেই নেমেছিলেন পুলিশের কিছু লোক। প্রথমে তো ঘটনাটি ছিল লোকচক্ষুর আড়ালে! গত ৪ জুনের ঘটনা নিয়ে আলাপ হচ্ছে এক দিন পর। কক্সবাজার থেকে সেদিন বিকেলে ২৮ জন যাত্রী নিয়ে সোহাগ পরিবহনের যে বাসটি ছেড়ে আসে, সেটি সিপি গেট চেকপোস্টের সামনে দাঁড়ানোর পর শুরু হয় নাটক। বাসের নিচের লাগেজ বক্স খুলে একটি বড় খয়েরি রঙের ব্যাগ পাওয়া যায়, যার মালিককে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তখন সেই ব্যাগটি হাতে নেন একজন এএসআই, যাঁর সেদিন সেখানে ডিউটি ছিল না! পুলিশ যখন লাগেজ খোঁজাখুঁজি করছে, তখন ২৮ যাত্রীর একজন লাপাত্তা হয়ে গেছে। খুবই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, জব্দ করা ব্যাগটি কারও সামনেই খোলা হয়নি। সেই বাসের সুপারভাইজারের নাম ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে জব্দ তালিকা করা হয়েছে, অথচ সুপারভাইজার সে রকম কোনো কাগজে স্বাক্ষর করেনইনি।

কত রকম ধানাই-পানাই যে করেছেন পুলিশের এই লোকেরা! একজন এএসআই তো বলেই দিলেন, সেদিন কোনো বাস থেকে কোনো ব্যাগ উদ্ধার হয়নি! ব্যাগই যখন উদ্ধার হয়নি, তখন ইয়াবা আসবে কোথা থেকে! মোক্ষম কথা! এ রকম অকাট্য যুক্তির পর পার পেয়ে যাওয়া কঠিন নয়, কিন্তু ভাগ্য খারাপ থাকলে যা হয়! সিসিটিভি ফুটেজের কারণে বানানো গল্পগুলো বৃথা গেল!

তদন্ত কমিটি তো হয়েছে। যতটুকু বোঝা যাচ্ছে, লাখ ইয়াবা নিয়ে বেশ বড় একটা বাণিজ্য হয়েছে। এখন এই তদন্ত কমিটি দোষীদের শনাক্ত করে উপযুক্ত বিচারের সামনে নিয়ে ফেলতে পারবে তো? নাকি সেই তদন্তও বিফলে যাবে?

পুলিশ নিয়ে গল্পের শেষ নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যে শপথ করে, যে অঙ্গীকারে আবদ্ধ থাকে, তা জীবনে চর্চা করলে এ ধরনের ইয়াবা গায়েবের গল্প শুনতে হতো না। কিন্তু বিধি বাম! সৎ লোকের পাশাপাশি অসৎ মানুষেরাও এই চাকরিতে ঢুকে পুলিশ বাহিনীর সুনাম নষ্ট করছেন। সুনাম পুনরুদ্ধারের কাজটি বাইরে থেকে কেউ করে দেবে না, পুলিশকেই করতে হবে।

রক্তাক্ত ক্যাম্পাস

অর্জনের হিসাব, অপূর্ণতার প্রশ্ন

পাউরুটি

সেতু সমাচার

মগের মুলুক

নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি

প্রতারণা

জামায়াত এমপির কন্যার কাণ্ড

পরোয়ানা

ইস্ট ইন্ডিয়া ১৮১৮