হোম > মতামত > সম্পাদকীয়

ওমরাহ

সম্পাদকীয়

ধর্ম মানুষের বিশ্বাস, আস্থা ও আত্মিক শান্তির অন্যতম আশ্রয়স্থল। বিশেষ করে হজ ও ওমরাহ পালনের মতো ধর্মীয় ইবাদতকে কেন্দ্র করে মানুষের আবেগ, ভক্তি ও বিশ্বাস গভীরভাবে জড়িয়ে থাকে। কিন্তু যখন সেই বিশ্বাসকেই পুঁজি করে প্রতারণার ফাঁদ পাতা হয়, তখন কিছু ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তো বটেই; আঘাত লাগে পুরো সমাজের নৈতিক ভিত্তিতে। ১৬ জুন আজকের পত্রিকায় প্রকাশিত এ রকম একটি প্রতারণার খবর পড়লে অনেক পাঠকেরই এমনটা মনে হতে পারে।

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা দরবার শরিফের দুই পীরজাদা হাম্মাদ চৌধুরী ও বাকী বিল্লাহ মিশকাত চৌধুরীর বিরুদ্ধে ওমরাহযাত্রীদের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এরই মধ্যে তাঁরা আত্মগোপনেও চলে গেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ৬৫ জন ওমরাহযাত্রীর ভিসা ও বিমান টিকিটের নামে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করেছেন তাঁরা। পরে যাত্রীদের পাঠাতে ব্যর্থ হয়ে দিয়েছেন ভুয়া ভিসা, জাল টিকিট এবং এমন চেক; যেগুলো ব্যাংকে উপস্থাপন করার পর দেখা গেছে, অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা নেই। অর্থাৎ, চেকগুলো প্রত্যাখ্যান বা ডিজঅনার হয়ে গেছে।

ঘটনাটির সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিক হলো, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা নিজেদের ধর্মীয় পরিচয় ও সামাজিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে মানুষের আস্থা অর্জন করেছিলেন। আমাদের সমাজে পীর, আলেম কিংবা ধর্মীয় নেতাদের প্রতি সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক শ্রদ্ধা রয়েছে। সেই শ্রদ্ধার সুযোগ নিয়ে কেউ যদি আর্থিক প্রতারণা করে, তাহলে তা যেমন একটি ফৌজদারি অপরাধ, তেমনি নৈতিক বিশ্বাসঘাতকতাও বটে।

যে প্রতিষ্ঠান অর্থ সংগ্রহ করেছিল, সেটির যে কোনো নিবন্ধন নেই, এ ব্যাপারটাও জানা গেছে ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর। এখন প্রশ্ন হলো, একটি অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এত বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন হলো কীভাবে? সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর নজরদারি কোথায় ছিল? ধর্মীয় ভ্রমণ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নিবন্ধন, আর্থিক সক্ষমতা

এবং তাদের কার্যক্রম নিয়মিত যাচাই করা হচ্ছে কি না, সেটি তো নিয়মিত খতিয়ে দেখা অতীব প্রয়োজন।

তবে যাঁরা ওমরাহ বা হজে যাবেন, তাঁদের নিশ্চয়ই সতর্ক থাকতে হবে। কাকে, কখন, কোথায়, কীভাবে আপনার সারা জীবনের কষ্টার্জিত উপার্জন ভরসা করে দিয়ে দিচ্ছেন, সেই তথ্য জানা থাকা জরুরি।

দুঃখজনক হলেও সত্য, দেশে প্রায়ই দেখা যায়, ধর্ম, শিক্ষা কিংবা সমাজসেবার আড়ালে কিছু ব্যক্তি মানুষের বিশ্বাসকে পণ্যে পরিণত করে। পরে প্রতারণা প্রকাশ পেলেও বিচারিক প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক ভুক্তভোগী ন্যায়বিচার পান না। ফলে অপরাধীরা নতুন রূপে আবারও ফিরে আসার সুযোগ পেয়ে যায়।

এই ঘটনায় দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মধ্য দিয়ে দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা জরুরি। একই সঙ্গে ধর্মীয় ভ্রমণ-সংশ্লিষ্ট খাতে কঠোর তদারকিসহ জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। ধর্মীয় লেবাসে কেউ প্রতারণা করে পার পেয়ে যাবে—এমন কথা নিশ্চয় কোনো ধর্মেই লেখা নেই। আর এ ধরনের ঘটনায় একবার বিশ্বাস হারিয়ে গেলে শুধু অর্থের ক্ষতি হয় না; ক্ষতিগ্রস্ত হয় সমাজের নৈতিক ভিত্তি এবং মানুষের পারস্পরিক আস্থার বন্ধন।

মাটি কাটা

নাঈমকে হেনস্তা

অভাগা রাইয়ান

বাজেটে জনগণের লাভ-ক্ষতি

একটি ক্লিকে

অ্যান্টিবায়োটিক যখন বিপদের কারণ

বই পোড়ানো

সড়কপথের দুর্ঘটনা

পর্যটনের সম্ভাবনা

কারারক্ষীর কাণ্ড