হোম > মতামত > সম্পাদকীয়

ভালোবাসা

সম্পাদকীয়

ভালোবাসা মরে যায় না। কোনো না কোনোভাবে টিকে থাকে। মন ভালো করে দেওয়া একটি খবর এসেছে মৌলভীবাজার থেকে। ৩১ বছর একটি স্কুলে শিক্ষকতা করার পর ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে অবসরে গেলেন রানু গোপাল রায় নামের একজন শিক্ষক। সিলেট অঞ্চলের মানুষেরা ভালোবাসার এই অপূর্ব দৃষ্টান্ত তৈরি করলেন।

কদমহাটা উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করা দীর্ঘ সময়টিতে তিনি হয়ে উঠেছিলেন শিক্ষার্থীদের অভিভাবক। শিক্ষার্থীরা যেকোনো সমস্যায় পড়লে তাঁর শরণাপন্ন হতো, তিনি সেই সমস্যা সমাধানের ঐকান্তিক চেষ্টা করতেন। কাউকে তাঁর কাছ থেকে খালি হাতে ফিরতে হয়নি।

শিক্ষকের প্রতি এই সম্মান সত্যিই মন ভালো করে দেয়। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে যে সম্পর্ক, তাতে শ্রদ্ধা ও সম্মান যেমন পান শিক্ষক, তেমনি শিক্ষকের কাছ থেকে স্নেহ ও ভালোবাসা পায় শিক্ষার্থীরা। সম্পর্কটি এ রকম সৌহার্দ্যপূর্ণ হয়ে উঠলেই শুধু পড়াশোনা হয়ে উঠতে পারে আনন্দময়।

আমাদের দেশে স্কুলশিক্ষকদের আর্থিক জীবন সচ্ছল নয়। শহুরে কোচিংয়ে অভ্যস্ত শিক্ষকদের জীবনধারণে টাকাপয়সার চাকচিক্য রয়েছে বটে, কিন্তু অধিকাংশ স্কুলশিক্ষক সচ্ছলতার দেখা পান না। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে ফাঁকি।

মানুষ গড়ার কারিগরদের জীবনই যখন আর্থিকভাবে দুর্বিষহ হয়ে ওঠে, তখন তারা শিক্ষার্থীদের পড়ানোর মতো রসদ কোথায় খুঁজে পাবেন? এ ছাড়াও স্কুলে শিক্ষকতা যে একটি সম্মানজনক পেশা হতে পারে, সে কথাও ধীরে ধীরে সমাজের মন থেকে অপসৃত হচ্ছে। শিক্ষকদের অনেকে নিজের সম্মান রাখতে পারছেন না তাঁদের কর্মকাণ্ডের কারণে, শিক্ষার্থীদের অনেকে বেয়াদবের চূড়ান্ত হয়ে উঠছে।

কিন্তু সব শিক্ষক বা শিক্ষার্থীকে সেই কাতারে নিয়ে ফেলা অন্যায় হবে। বরং বলতে হবে, অধিকাংশ শিক্ষক-শিক্ষার্থীই স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন কামনা করে। শিক্ষাব্যবস্থায় সেই স্বাভাবিকতা কীভাবে আনা যায়, সে চেষ্টা থাকা জরুরি।

২০২৪ সালের আগস্টের পটপরিবর্তনের পর শিক্ষক হেনস্তার মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। ভিডিওতে শিক্ষক-নির্যাতনের ছবি দেখে আহত হয়েছে সাধারণ মানুষের মন। সেই কলঙ্কজনক অধ্যায়ের কথা জাতির স্মৃতি থেকে মুছে ফেলা যাবে না। মৌলভীবাজারের কদমহাটা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠানটির খবর পড়ে আশায় বুক বাঁধার মতো পরিবেশ সৃষ্টি হয়। তাহলে এখনো কোথাও না কোথাও মানবতা বেঁচে আছে। এখনো শিক্ষক সম্মান পান? এখনো একজন শিক্ষককে বিদায় দিতে এসে শিক্ষার্থীদের চোখ অশ্রুসিক্ত হয়?

কদমহাটা উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার পথ ঘোড়ার গাড়িতে করে এই শিক্ষককে তাঁর নিজ বাসভবনে পৌঁছে দেওয়া হয়। তাঁর সহকর্মীরা রানু গোপাল রায়ের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের কথা বলতে গিয়ে বলেছেন, তিনি নীতির প্রশ্নে আপসহীন এবং মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন মানুষ। সহকর্মীদের এই কথাকে মূল্য দিতে হবে এই কারণে যে, এ যুগে নীতির প্রশ্নে আপসহীন মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন মানুষ কজন খুঁজে পাওয়া যাবে?

শিক্ষকের মর্যাদা সামগ্রিকভাবে মানবতাকেই উজ্জ্বল করে তোলে। ভালো লাগল খবরটি পড়ে।

বিসিএসের গোলকধাঁধা

মানিকগঞ্জের পোস্ট কার্ড

অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা

সুপ্রিম কোর্টের আলাদা সচিবালয়

আদমদীঘির ৫০০ মিটার

‘অধ্যাদেশ রহিত করা সরকারের আত্মঘাতী কাজ’

সরকারের অবস্থান নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে

সব ক্ষেত্রে কেন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চান

সুপেয় পানি

হায় রে হাঁড়িধোয়া