হোম > মতামত > সম্পাদকীয়

নির্বাচনী সহিংসতা

সম্পাদকীয়

জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তফসিল ঘোষণার আগে ও পর থেকে সারা দেশে নানা ধরনের সহিংসতার ঘটনা নির্বাচন কতটুকু শৃঙ্খলার সঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক সাধারণ ভোটারের অংশগ্রহণ করতে না পারা নিয়ে অভিযোগ আছে। সেই প্রেক্ষাপটে এবারের নির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। কিন্তু ২৮ জানুয়ারি শেরপুর-৩ আসনে সংঘর্ষে একজন নিহতের ঘটনা নির্বাচনী পরিবেশ কতটুকু স্বাভাবিক থাকবে, তা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সেদিন এ ঘটনায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে আহত হয়েছেন দুই দলের কমপক্ষে ৩০ জন। উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে মঞ্চের সব চেয়ারে বসে যান স্থানীয় জামায়াতের নেতারা। এর সূত্র ধরে দুই দলের সমর্থকেরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সহিংসতা ঠেকাতে উপজেলা প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে দেখা যায়নি। এ ঘটনায় ঝিনাইগাতীর ইউএনও ও ওসিকে প্রত্যাহার করেছে ইসি।

এর আগে ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের রাউজানে একজন যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ৫ জানুয়ারি রাতে নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় শরৎ চক্রবর্তী নামে একজন মুদিদোকানিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। কক্সবাজারে একজন প্রার্থীকে কাফনের কাপড় পাঠিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

১ জানুয়ারি প্রকাশিত এইচআরএসএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী সহিংসতার ৫৪টি ঘটনায় ৩ জন নিহত এবং ৪৯৪ জন আহত হয়েছেন। নির্বাচনের আর বেশি দিন নেই। এ সময়ের মধ্যে যদি নির্বাচনী পরিবেশ স্বাভাবিক না থাকে, তাহলে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করবে।

২০২৪ সালের হাসিনা সরকার পতনের দিন সারা দেশের অনেকগুলো থানায় অস্ত্র ও গুলি লুটের ঘটনা ঘটে। এসব অস্ত্রের কিছু উদ্ধার করা গেলেও এখনো অনেক অস্ত্র উদ্ধার করা যায়নি। এই অবৈধ অস্ত্রগুলো এখন নির্বাচনের সময় যে ব্যবহৃত হচ্ছে না, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। পাশাপাশি অনেক আগে থেকেই মাঠপর্যায়ে প্রভাব বিস্তারের একটি মরিয়া চেষ্টা পরিলক্ষিত হতে দেখা গেছে। এখন সেটা নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য দেখা যাচ্ছে। আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব এবং উসকানিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে জনমনে ভীতি সঞ্চার করা হচ্ছে, যা দ্রুত মাঠপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে।

সহিংসতা রোধ করতে শুধু পুলিশ বাহিনী নয়, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। নির্বাচন কমিশনকে কেবল রেফারি নয়, বরং প্রশাসকের ভূমিকায় আবির্ভূত হতে হবে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের যেকোনো ঘটনায় তাৎক্ষণিক ও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে দলগুলোর কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীকে শান্ত থাকার নির্দেশ দিতে হবে। সহিংসতামুক্ত একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে হলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

কর্মহীন শ্রমিক

পিডিবিকে বাঁচাতে হবে

কানে ধরা

মার্ক টালি

‘আমরা যদি বড় হতাম...’

শিশুর প্রতি পাশবিকতা কেন

দুই নম্বরি

বাড়িভাড়া সমাচার

জঙ্গল সলিমপুর

আত্মহত্যা