হোম > মতামত > সম্পাদকীয়

দেড় মাস বয়সী বাচ্চাটা

সম্পাদকীয়

কেউ বিশ্বাস করবে না, এ রকম এক মামলায় এক মা ও তাঁর দেড় মাস বয়সী শিশু জেলখানা ঘুরে এল। শিশু কোলে নিয়ে মায়ের সেই ছবিটি ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। এই মাকে গ্রেপ্তার করেছে যে পুলিশ সদস্যরা, তাঁদের ‘বীরপুঙ্গব’ হিসেবে পুরস্কৃত করা উচিত। সরকারি দলের যে আইনজীবী এই অসহায় নারী ও শিশুর জামিন দেওয়া কেন উচিত হবে না বলে আদালতে লড়াই করেছেন, তাঁকে ‘বিচক্ষণ’ উপাধি দেওয়া যেতে পারে। আদালত অবমাননা কিসে হয় আর কিসে হয় না, সেটা জানা নেই বলে জামিন নাকচ করে এই মা-শিশুকে জেলে পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে কথাই বললাম না। শুধু বলতে হচ্ছে, দিনের এই ম্যাজিক কারবারকে নাকচ করা হয়েছে রাতে আদালত বসিয়ে। এবং সেই মা ও শিশু জামিন পেয়েছে। এটা একটা সুসংবাদ বটে, কিন্তু তা মোটেও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ইঙ্গিতবহ নয়।

যে মামলায় আওয়ামী যুব মহিলা লীগের কর্মী শিল্পী বেগমকে এ রকম তোড়জোড় করে ধরা হলো এবং তাঁর বিচার হলো, তাতে বোঝা যায়, নিম্ন আদালতে নির্বাহী বিভাগের হস্তক্ষেপ নিয়ে যে সমালোচনাগুলো আছে, তা শেষ হওয়ার নয়। কিন্তু প্রশ্ন উঠবেই, কারা এত উৎসাহ নিয়ে একজন নারী কর্মীকে পাকড়াও করার ব্যাপারে এই বীরত্ব দেখাল? যে মামলাটি করা হয়েছে, তা কি উচ্চ আদালতে ধোপে টিকবে? হত্যাচেষ্টা মামলা তো ইউনূস সরকারের আমলে মুড়ি-মুড়কির মতো করা হয়েছে। একেক মামলায় যত খুশি জ্ঞাত ও অজ্ঞাতনামা মানুষের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তা নিয়ে চলেছে মামলা-বাণিজ্য। কোন কোন দলের কর্মীরা মামলা-বাণিজ্য করে আখের গুছিয়েছে, সেটা কি অজানা? জামিন হওয়ার পরেও কারাগারের দরজা থেকে শ্যোন অ্যারেস্ট করার যে বাড়াবাড়ি চলল, তার পেছনে রয়েছে কাদের হাত? জামিনে মুক্ত হলেও মুক্ত হওয়া যাবে না— ইউনূসীয় এই দানবীয় অন্যায় গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে কীভাবে টিকে আছে? কেন টিকে আছে? এই প্রশ্নগুলোর জবাব দেবে কে?

দেড় মাস বয়সী এই শিশুটির কাছে দায়ী থাকবে এই সময়টি। দায়ী থাকবে এই সময়কার প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজ-কারবার। দায়ী থাকবে আইনের নামে মানবতার এ রকম বিচ্যুতির বিষয়টি। প্রিয়জন মারা গেলে হাতে-পায়ে শিকল পরিয়ে প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার ঘটনা নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছে। কিন্তু তাতে কর্তৃপক্ষের মন গলেনি। নির্বাহী বিভাগকে সবখানে কর্তৃত্ব করতে দিলে দিন শেষে কী হয়, তা তো দীর্ঘদিন ধরেই দেখা যাচ্ছে। কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন তো হচ্ছে না। এই মা-শিশুর জামিন পাওয়ার ঘটনাটাও তো ছবি ভাইরাল হওয়ার পর ঘটল। তার আগে সরকারিপক্ষ আদালতে কী করেছে, তার জবাব কে দেবে?

এই মা ও শিশুর কাছে পুরো জাতিকে লজ্জার সম্মুখীন করল যারা, তাদের সবার বিচার চাওয়া জরুরি। এবং এদের কাউন্সেলিংও অপরিহার্য বলে মনে হয়।

অনুসরনীয় উদ্যোগ

তিনি ছাত্রদলের নেতা

জ্বালানি

চিকিৎসাব্যবস্থার দীনতা

অসহিষ্ণুতা

ভালোবাসা

বিসিএসের গোলকধাঁধা

মানিকগঞ্জের পোস্ট কার্ড

অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা

সুপ্রিম কোর্টের আলাদা সচিবালয়