২০২৪ সালের ৩ জুন শফী ভাই আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন। দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী চলে যাওয়ার পরও এই কথাটা শোকে কাতর করে দিচ্ছে।
দুই বছর আগে সেদিনের বিকেলে পাওয়া এই সংবাদ আমাকে শুধু হতবাক করেনি, বাক্রুদ্ধও করেছিল। মাত্র ৬২ বছর বয়সে হার্ট অ্যাটাকে আমাদের থেকে বিদায় নিয়েছিলেন একসময়কার তুখোড় ছাত্রনেতা ও রাজনীতিবিদ শফী আহমেদ। তিনি আশির দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র এবং জাসদ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে ছিলেন। স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময়কালে তাঁর সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুযোগ হয়েছিল। নব্বইয়ের গণ-আন্দোলনে শফী আহমেদের নেতৃত্ব ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বলিষ্ঠ ও শক্তিশালী। গোয়েন্দাদের থেকে লুকিয়ে থাকা এবং আন্দোলনরত রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে এই সময় বিভিন্নভাবে আমি তাঁর সহযোগী হিসেবে থাকতে চেষ্টা করেছি। পরবর্তী সময়ে আমাদের এই রাজনৈতিক ও সামাজিক যোগাযোগ সব সময় অব্যাহত ছিল। পারিবারিক যোগাযোগও কোনো সময়ের জন্য বিচ্ছিন্ন হয়নি।
শফী ভাই নব্বই-পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যোগদান করেন। নিজের সাংগঠনিক দক্ষতায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে জায়গা করে নিয়েছিলেন। তাঁর জীবনের ইচ্ছা ছিল নিজ জন্মস্থান নেত্রকোনা থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে জনগণের পাশে দাঁড়ানো। গ্রামের সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে গিয়েছিল তাঁর সব কর্মকাণ্ড। তিনি ছিলেন তাঁদের একজন। এ বিষয়ে আমরা অনেক মতবিনিময় করেছি। সুযোগ পেলেই শফী ভাই যোগ দিয়েছেন আমার সঙ্গে। কিন্তু সব ধরনের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তাঁর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়নি।
মানুষ হিসেবে শফী ভাই লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে ছিলেন। অত্যন্ত সদালাপি উদার মানসিকতার একজন মানুষ মিশে ছিলেন সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে। স্মৃতি থেকে তাঁকে দূরে সরিয়ে রাখা কষ্টকর। তাঁর মৃত্যুতে শোকাহত হয়েছে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ। সেই সময়কার প্রধানমন্ত্রীসহ অসংখ্য রাজনীতিবিদ ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের গুণীজনেরা শ্রদ্ধার সঙ্গে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন তাঁর মৃত্যুতে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন সর্বস্তরের মানুষ। নিজ গ্রামে তাঁকে বীরের মর্যাদায় সমাহিত করা হয়। শফী ভাই আমাদের মধ্যে বেঁচে ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও প্রেরণা হিসেবে বেঁচে থাকবেন। আমরা তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।