হোম > মতামত > সম্পাদকীয়

একটি ভালো উদ্যোগ

সম্পাদকীয়

সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকার দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার আমূল সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে, যা দেশের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসুরক্ষা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে।

মোট ২৯৫টি জেনেরিক ওষুধকে ‘অত্যাবশ্যকীয়’ ঘোষণা করা হয়েছে। ওষুধগুলোর দাম সরকার নির্ধারণ করে দেওয়ার ফলে ওষুধ কোম্পানিগুলোর আর স্বেচ্ছাচারিতা থাকবে না। তবে প্রশ্ন হলো, উদ্যোগটি যদি কার্যকর করা সম্ভব না হয়, তাহলে ওষুধ সরবরাহকারীদের দাপট থামবে না। কারণ, আমাদের দেশে অনেক ভালো উদ্যোগ শুধু কার্যকরের অভাবে মুখ থুবড়ে পড়ে।

বাংলাদেশের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বাস্থ্যসুরক্ষায় স্বল্পমূল্যে মানসম্মত ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ১৯৮২ সালে প্রথমবারের মতো জাতীয় ওষুধনীতি প্রণয়ন হয়, যার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। এই নীতির কারণে বাংলাদেশে ওষুধের দাম শুধু সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যেই আসেনি; বরং বিশ্বের ১৪৭টির মতো দেশে এখন ওষুধ রপ্তানি করছে বাংলাদেশ।

এরপর ২০১৬ সালে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা করা হলেও তদারকির অভাবে সাধারণ মানুষ তার সুফল পায়নি। আগের ২৮৬টি ওষুধের মধ্যে মাত্র ১১৭টির দাম সরকার নির্ধারণ করতে পারত, বাকিগুলোর দাম ওষুধ কোম্পানিগুলো তাদের ইচ্ছেমতো নির্ধারণ করত।

সরকারের এ সিদ্ধান্তের সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো, এর বাস্তবায়ন কৌশল পদ্ধতি। ওষুধ ব্যবসায়ীদের আকস্মিক ক্ষতির মুখে না ফেলে চার বছর সময় দিয়ে ধাপে ধাপে দাম সমন্বয়ের যে পরিকল্পনা করা হয়েছে, বলতেই হবে তা একটি ভালো উদ্যোগ।

শুধু দাম নিয়ন্ত্রণ নয়, নীতিমালায় দেশে এপিআই (ওষুধের কাঁচামাল) উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর যে জোর দেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ওষুধশিল্পে আমদানিনির্ভরতা কমাতে পারলে ওষুধের উৎপাদন খরচ এমনিতেই কমে আসবে, যা ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতি ও স্বাস্থ্য খাত উভয়কেই স্বাবলম্বী করে তুলবে।

যেকোনো মহৎ উদ্যোগের সাফল্য নির্ভর করে তার সঠিক বাস্তবায়নের ওপর। অতীতের অভিজ্ঞতায় আমরা দেখেছি, তদারকির অভাবে অনেক ভালো উদ্যোগও ভেস্তে গেছে। তাই এই নতুন নীতিমালা বাস্তবায়নে সরকারের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। মাঠপর্যায়ে ফার্মেসিগুলো নির্ধারিত দামে ওষুধ বিক্রি করছে কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। দাম কমানোর অজুহাতে ওষুধের গুণগত মানের যেন কোনো অবনতি না হয়, সেদিকে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। দাম নির্ধারিত হওয়ার পর অনেক সময় বাজারে ওষুধের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করার অপচেষ্টা হতে পারে। এ ধরনের অপচেষ্টা রোধে আগেভাগে পরিকল্পনা ও উদ্যোগ নিতে হবে।

চিকিৎসা নাগরিকের মৌলিক অধিকার। ওষুধের আকাশচুম্বী মূল্যের কারণে সাধারণ মানুষ যখন বেকায়দায়, তখন সরকারের এই ‘অত্যাবশ্যকীয়’ তালিকা সম্প্রসারণ এবং দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্তটি আশার আলো হয়ে দেখা দিতে পারে। আমরা আশা করব, এই নীতিমালা কেবল কাগজ-কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবায়ন করা হবে, যেন সাধারণ মানুষ উপকৃত হয়। সরকারের এই সাহসী সিদ্ধান্তকে সফল করতে হলে ওষুধ কোম্পানি, ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

নতুন রূপে পররাজ্য দখলের সনাতনি পর্ব

মোগলহাট ও লালমনিরহাট: উন্নয়ন বঞ্চনার এক বাস্তব দলিল

যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য না বুঝলে তাকে বোঝা যাবে না

যুক্তরাষ্ট্রে তুষারময় দিন ও বাংলাদেশের শীতকাল

শিশুশ্রম

এলপি গ্যাসের সংকট একটি সংকেতমাত্র

জামানতের কাঁটাতারে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা

তীব্র শীতে গরিবের হাহাকার

নির্বাচন ও পুলিশ

পরিত্যক্ত উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র