রাজধানীতে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমের অগ্রগতি স্বচক্ষে পর্যবেক্ষণ করতে পরিদর্শনে বেরিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শুক্রবার বিকেলে তিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকা ও সড়ক ঘুরে দেখেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আজ শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে গাড়ি চালিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন রুট পরিদর্শনে বের হন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘রাজধানীর কোরবানির বর্জ্য অপসারণ প্রক্রিয়া যথাযথভাবে হচ্ছে কিনা তা দেখতে বেরিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি নিজেই তাঁর গাড়ি চালিয়ে বিভিন্ন রুট ঘুরে দেখেছেন।’
তিনি আরও জানান, পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা গাড়িগুলো ছাড়া অন্য কোনো বিশেষ প্রটোকল বা আনুষ্ঠানিকতা ছিল না, যাতে যান চলাচল বা বর্জ্য অপসারণের কাজে কোনো বিঘ্ন না ঘটে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তাঁর গুলশান অ্যাভিনিউয়ের বাসভবন থেকে গাড়ি নিয়ে বের হন। এরপর তিনি গুলশান-১ নম্বর সড়ক হয়ে হাতিরঝিল, রামপুরা রোড ও মালিবাগের আবুল হোটেল এলাকা অতিক্রম করেন। সেখান থেকে তালতলা মার্কেট হয়ে বাসাবো সড়ক পথ দিয়ে ঢাকার দক্ষিণাঞ্চলের দিকে এগিয়ে যান।
পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি কমলাপুর স্টেডিয়াম ও সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড হয়ে যাত্রাবাড়ী মোড় অতিক্রম করে। সেখান থেকে তিনি ধোলাইখাল, শহীদ ফারুক সড়ক, দয়াগঞ্জ সড়ক ও নারিন্দা এলাকা পরিদর্শন করেন। এরপর রায়সাহেব বাজার মোড় ও আদালত সড়ক হয়ে নয়া বাজার এবং বংশাল রোড দিয়ে গুলিস্তান ও শাহবাগ এলাকায় পৌঁছান।
পরিদর্শনের শেষ অংশে প্রধানমন্ত্রী শাহবাগ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর দিয়ে নিউমার্কেট যান। এরপর সায়েন্স ল্যাবরেটরি থেকে ডান দিকে মোড় নিয়ে কলাবাগান, মিরপুর রোড ও সিটি কলেজের সামনে দিয়ে সীমান্ত স্কয়ার হয়ে জিগাতলা বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছান। সেখান থেকে ২৭ নম্বর সড়ক এবং মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ হয়ে মহাখালী সড়ক প্রদক্ষিণ করে তাঁর পরিদর্শনের সমাপ্তি টানেন।
ঈদুল আজহার প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হয় দ্রুততম সময়ের মধ্যে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ করা। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ—উভয় সিটি করপোরেশনই এবার যথাক্রমে ১২ ঘণ্টা ও ৮ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকার প্রধানের এই আকস্মিক ও সরাসরি পরিদর্শন মাঠ পর্যায়ের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও তদারকি কর্মকর্তাদের কাজের গতি ও জবাবদিহি বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে।