ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই রাজধানীর সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী ও দনিয়া এলাকার বিভিন্ন কেন্দ্রে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। ভোটকেন্দ্রগুলোতে ছিল নারী-পুরুষের দীর্ঘ লাইন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চোখে পড়েছে প্রথমবার ভোট দিতে আসা তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি।
কেন্দ্রগুলো সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, হাতে জাতীয় পরিচয়পত্র আর চোখে নতুন অভিজ্ঞতার উচ্ছ্বাস নিয়ে তরুণ ভোটাররা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। বন্ধুদের সঙ্গে দল বেঁধে কেউ এসেছেন, কেউ আবার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে।
যাত্রাবাড়ীর দনিয়া কুতুবখালী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রথমবার ভোট দিতে আসা মঈন উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘নতুন ভোটার হয়েছি। জাতীয় নির্বাচনে প্রথম ভোট দিতে পেরে দারুণ লাগছে। এটা নিজের দায়িত্ব পালন করার একটা গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।’
সায়েদাবাদের আরেক তরুণ ভোটার তানভীর হাসান জানান, তিনি সকাল বেলাতেই বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে কেন্দ্রে এসেছেন। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা একসঙ্গে বড় হয়েছি, আজ একসঙ্গে ভোট দিচ্ছি। এটা আমাদের জন্য স্মরণীয় দিন। ভোট মানে শুধু প্রার্থী বেছে নেওয়া না, নিজের মত প্রকাশ করা।’
দনিয়া এলাকার ভোটার সামিয়া ইসলাম জানান, প্রথমবার ভোট দিতে এসে তিনি কিছুটা নার্ভাস ছিলেন। তবে ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ দেখে স্বস্তি পেয়েছেন। ‘প্রথম ভোটের অনুভূতি আলাদা। মনে হচ্ছে দেশের সিদ্ধান্তে আমিও অংশ নিচ্ছি,’বলেন তিনি।
একই এলাকার আরেক তরুণ রাফি উজ জামান বলেন, ভোট দেওয়া নিয়ে বন্ধুমহলে বেশ আলোচনা ছিল। কে কাকে ভোট দেবে —সেটা ব্যক্তিগত ব্যাপার। কিন্তু ভোট দিতে আসাটাই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাই আমাদের কণ্ঠস্বরটা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যুক্ত হোক।
কেন্দ্রগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, সকাল থেকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল লক্ষণীয়। অনেকেই প্রথম ভোটের অভিজ্ঞতা স্মরণীয় করে রাখতে ছবি তুলছেন, আবার কেউ সামাজিক মাধ্যমে অনুভূতি ভাগাভাগি করছেন।
রাজধানীর এসব এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও ইতিবাচক মনোভাব নির্বাচনী পরিবেশে আলাদা প্রাণসঞ্চার করেছে। প্রথমবার ভোটাধিকার প্রয়োগের এই অভিজ্ঞতা তাদের কাছে যেমন আনন্দের, তেমনি দায়িত্ববোধেরও প্রতিফলন।