অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির বলেন, ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা ও উগ্র মতাদর্শ নারীবিদ্বেষকে উসকে দিচ্ছে, যা বিশ্বব্যাপী একটি প্রবণতা। বাংলাদেশ এই পথে যেতে পারে না। ভাষা, সংস্কৃতি ও অন্তর্ভুক্তির জন্য যে দেশ স্বাধীন হয়েছে, সেখানে নারীর অধিকার খর্ব করা আত্মঘাতী হবে।
আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর পুরোনো এলিফ্যান্ট রোডে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) অডিটরিয়ামে উইমেন ইন ডেমোক্রেসির (উইনড) উদ্যোগে আয়োজিত ‘গণতন্ত্রের সংগ্রামে নারী: অবদান, দায় ও দায়িত্ব’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
নারীর অধিকার, নেতৃত্ব ও সাংবিধানিক অর্জনকে আড়াল করতে পুরোনো ‘বিভাজন ও শাসন’ কৌশল নতুন করে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির। তিনি বলেন, বৈষম্যের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন থেকে বাংলাদেশ এগিয়েছে, আজ সেই বৈষম্য নতুনভাবে আরও প্রকট করা হচ্ছে।
দায়মুক্তির সংস্কৃতির কঠোর সমালোচনা করে ফারাহ কবির বলেন, নারী নির্যাতন, ক্যাম্পাস সহিংসতা ও রাজনৈতিক সহিংসতার বিচার না হওয়াই সমস্যার মূল। বিচারহীনতার এই ধারাবাহিকতা বন্ধ না হলে কোনো নীতিই কার্যকর হবে না।
ফারাহ কবির আরও বলেন, নারীর নামে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বা কার্ড দেওয়া হলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে সেটিই নির্যাতনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রকৃত ক্ষমতায়ন চাইলে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, নিরাপদ পরিবহন ও স্বাধীন চলাচলের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
ফারাহ কবির বলেন, ১৯৯৭ সালের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিপুল নারী নির্বাচিত হলেও রাজনৈতিক দলগুলো তাঁদের ক্ষমতায়ন ও নেতৃত্ব বিকাশে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। আজ সেই সুযোগ হারানোর ফল ভোগ করতে হচ্ছে।
ফারাহ কবির বলেন, নারীর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে বাস্তবতা এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। যদি নারীরা নেতৃত্ব দিতে না পারে, তাহলে দেশের অর্থনীতি, গার্মেন্ট খাত, রেমিট্যান্স ও পরিবারকাঠামো কীভাবে চলবে—এই প্রশ্নের উত্তর কেউ দেয় না।
নারী শিক্ষা ও বাল্যবিয়ে প্রসঙ্গে ফারাহ কবির বলেন, ১৮ বছরের আগে দেশের প্রায় অর্ধেক মেয়ের বিয়ে হয়ে যায়। অনেক মেয়ের পড়াশোনা বন্ধ হয় নিরাপত্তাহীনতা ও সামাজিক বাধার কারণে। এটি শুধু রাষ্ট্রের নয়, সমাজ ও কমিউনিটিরও ব্যর্থতা।
বক্তব্যের শেষে ফারাহ কবির বলেন, নতুন সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবায়নের রোডম্যাপ প্রয়োজন। দায়মুক্তির অবসান, সাংবিধানিক অধিকার কার্যকর করা এবং নারীর নেতৃত্বে বিনিয়োগই হতে পারে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ।