হোম > জাতীয়

সংসদীয় দক্ষতা বাড়াতে গঠিত বিআইপিএস ২৫ বছরেও কার্যক্রম শুরু করেনি

তানিম আহমেদ, ঢাকা 

ফাইল ছবি

সংসদীয় গণতন্ত্র ও সংসদব্যবস্থাকে কার্যকর ও দক্ষ করতে, সংসদ সদস্য ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং গবেষণালব্ধ জ্ঞানের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে ২০০১ সালের ১১ এপ্রিল বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পার্লামেন্টারি স্টাডিজ (বিআইপিএস) আইন প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু ২৫ বছর পার হলেও প্রতিষ্ঠানটি চালু হয়নি, যা চালুর পরিকল্পনা করছে বর্তমান সংসদ।

এরই মধ্যে আইনটি নিয়ে পর্যালোচনা করতে সংসদের লাইব্রেরি কমিটি একটি উপকমিটি গঠন করেছে; যারা বিআইপিএস স্থাপনের জন্য স্থান নির্বাচন ও রেক্টর নিয়োগের পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য মূল কমিটিকে পরামর্শ দেওয়ার সুপারিশ করবে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ অবশ্য বলছেন, বিআইপিএস চালু না করে সংসদের গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও ভিজিট শাখার জনবলকে দক্ষ করে সংশ্লিষ্ট কাজগুলো সহজে করা যাবে।

জানতে চাইলে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও লাইব্রেরি কমিটির সভাপতি কায়সার কামাল আজকের পত্রিকাকে বলেন, ইনস্টিটিউটটি নামে ও আইনে আছে, কিন্তু কাজে নেই। সে জন্য লাইব্রেরি কমিটির পক্ষ থেকে একটি উপকমিটি করা হয়েছে। তাদের রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আইন অনুযায়ী স্পিকারের নেতৃত্বে ৩৬ সদস্যের বিআইপিএস পরিচালনা বোর্ড থাকার কথা। যেখানে সরকারি ও বিরোধী দলের প্রতিনিধি ছাড়াও আইন কমিশনের প্রতিনিধি; অ্যাটর্নি জেনারেল; সংবিধান বিশেষজ্ঞ; আমলা; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটের প্রবীণতম সদস্য; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন; সুপ্রিম কোর্ট বার সমিতির সভাপতি ও সম্পাদক; প্রেসক্লাবের সভাপতি-সম্পাদক; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি-সম্পাদক; আইনজীবী, অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকার থাকার কথা রয়েছে। সংসদ সদস্য ছাড়া অন্যরা দুই বছর মেয়াদে থাকবেন। এটি একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করবে।

প্রতিষ্ঠানটি আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে সহায়তা দেওয়ার জন্য সংসদ সদস্য, সংসদীয় বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় করবে। দেশে-বিদেশে সেমিনার, সম্মেলন, ওয়ার্কশপ ও সিম্পোজিয়াম আয়োজন ও পরিচালনা করবে। সংসদীয় ব্যবস্থা নিয়ে সাময়িকী, প্রতিবেদন প্রকাশসহ সংসদীয় ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গবেষণা করবে। বিআইপিএস আইন করার ২৩ বছর পর ২০২৪ সালের ১২ মে তৎকালীন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে পরিচালনা বোর্ডের প্রথম বৈঠক হয়। এরপরই জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার এক নম্বর মন্ত্রী হোস্টেল ব্লকে সোনালী ব্যাংকের ওপরের তলায় দুটি কক্ষ নিয়ে বিআইপিএস কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন তৎকালীন স্পিকার।

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, ওই সময় শুধু নামফলকই উদ্বোধন করা হয়েছিল। এরপর গণ-অভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়। ৬ আগস্ট দ্বাদশ জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত করেন রাষ্ট্রপতি। গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে ঘুরে বিআইপিএসের দুটি নামফলক পাওয়া যায়। সেখানে অবস্থান করা সংসদ সচিবালয়ের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিআইপিএসের জন্য সে সময় দুটি রুম বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। সেখানে শুধু চেয়ার-টেবিল পাতা হয়েছিল, কিন্তু কোনো কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগেই ক্ষমতার পরিবর্তন হয়ে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংসদ সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, গত ৫৪ বছরে সংসদে এত আইন পাস হয়েছে, কিন্তু সংসদের জন্য করা নিজস্ব আইন ২৫ বছরেও কার্যকর হয়নি। এটা দুঃখজনক। সংবিধান অনুযায়ী আইন বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, তার পরীক্ষা করার ক্ষমতা সংসদের রয়েছে। কিন্তু এ দেশে তা হয় না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিআইপিএস চালু হলে সংসদ সদস্যরা লেখাপড়া করার সুযোগ পাবেন। সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা কাছাকাছি বসার সুযোগ পাবেন, এতে দুই পক্ষের দূরত্ব কমে আসবে বলে মনে করেন তাঁরা।

এর বিপরীত পক্ষেও মতামত আছে বিশেষজ্ঞদের একাংশের। তাঁদের মতে, বিগত কয়েক সংসদের সদস্যরা লাইব্রেরিতেও তেমন সময় দিতেন না। নতুন সংসদেও একই প্রবণতা আছে। এমন পরিস্থিতিতে বিআইপিএস চালু হলে সংসদ সদস্যরা পড়াশোনায় আগ্রহী হবেন কি না, সেটা সময় বলে দেবে।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরে গত ১২ মার্চ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালকে সভাপতি করে লাইব্রেরি কমিটি গঠন করা হয়। গত ২৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে বিআইপিএস নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে বিআইপিএস আইনের অধীনে গঠিত পরিচালনা বোর্ড পুনর্গঠনের লক্ষ্যে যাচাই-বাছাই ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য কমিটির সদস্য মাহাবুবুর রহমানকে আহ্বায়ক এবং নায়াব ইউসুফ আহমেদ ও মোহাম্মদ নাজিবুর রহমানকে সদস্য করে উপকমিটি গঠন করা হয়। উপকমিটি ১৩ মে বৈঠক করেছে। সেখানে তারা আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধন, সংযোজন, পরিমার্জনের প্রস্তাব এবং বিআইপিএস স্থাপনের জন্য একটি আদর্শ স্থান নির্বাচন ও রেক্টর নিয়োগের ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য লাইব্রেরি কমিটিকে পরামর্শ দেওয়ার সুপারিশ করে। পরিচালনা বোর্ডের সদস্যসংখ্যা ৩৬ থেকে কমানোর জন্যও তারা পরামর্শ দেয়।

নায়াব ইউসুফ আহমেদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘সংসদের বিষয়ে আমাদের প্রশিক্ষণ লাগবে, পড়াশোনা করতে হবে। জ্ঞান ছাড়া কোনো কিছুই এগোবে না। বিআইপিএসের মাধ্যমে আমরা নিজেরাও পড়াশোনা করব, একই সঙ্গে পরে যাঁরা আসবেন, তাঁদের আমরা প্রশিক্ষণ দিতে পারি। আশা করি, এটি একটি কার্যকর ইনস্টিটিউট হতে পারবে।’

তবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও সংসদবিষয়ক গবেষক নিজাম উদ্দিন আহমদ বলেন, আইনের মাধ্যমে বিআইপিএসের যে কাজ করার কথা বলা আছে, সে বিষয়ে সংসদের বর্তমান জনবলকে সঠিক প্রশিক্ষণ দিয়ে এবং গবেষণা ও প্রশিক্ষণ শাখাকে আরও উন্নত করলে বিআইপিএসের সব কাজ করা যাবে। আরও অনেক ভালোভাবে করতে পারা যাবে। বিআইপিএস প্রতিষ্ঠা হলে তা আমলাতন্ত্রের হাতে চলে যাবে। বিদ্যমান সংসদ সচিবালয় আইনের মাধ্যমে সব করা যাবে। অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের দরকার নেই।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সম্পাদক পরিষদের বৈঠক

ডিএমপি কমিশনার হলেন মোসলেহ্ উদ্দিন

স্পিকারের সঙ্গে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

১১৬টি বেটিং সাইট বন্ধে বিটিআরসিকে সিআইডির চিঠি

ইরান-কোরিয়ার মতো নিজস্ব চলচ্চিত্র ভাষা তৈরিতে চলচ্চিত্র আর্কাইভ সাহায্য করতে পারে: তথ্য উপদেষ্টা

বাকি ২ মামলাতেও জামিন বহাল আইভীর, মুক্তিতে বাধা নেই

নির্বাচনে নারী প্রতিনিধির উপস্থিতি কম, ইসির কাছে কারণ জানতে চাইল ইউএন উইমেন

শাহজালাল বিমানবন্দরে চালু হলো ফ্রি ওয়াই-ফাই

ড. ইউনূসসহ সব উপদেষ্টার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে রিট

দুবাইয়ে ৬ হাজার বাংলাদেশি গাড়িচালক নিয়োগে সাক্ষাৎকার শুরু আজ