অপরিকল্পিত নগরায়ণ রোধ এবং উন্নত নাগরিক জীবন নিশ্চিত করতে বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করতে যাচ্ছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২৬-এর খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সন্ধ্যায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বগুড়া ও এর সন্নিহিত এলাকা সমন্বয়ে একটি পরিকল্পিত আধুনিক নগর প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এ অঞ্চলের ভূ-প্রাকৃতিক পরিবেশ ও প্রতিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ রোধ করা, দুর্যোগ সহনশীল নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, তথ্যপ্রযুক্তি ও পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং উন্নত নাগরিক জীবন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২৬ করা হচ্ছে।
এই আইনের মাধ্যমে বগুড়া সিটি করপোরেশন ও সংলগ্ন এলাকা নিয়ে চেয়ারম্যান, সার্বক্ষণিক সদস্য ও বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি সমন্বয়ে বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নামে একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা প্রতিষ্ঠা করা হবে। এ কর্তৃপক্ষ গণশুনানি ও প্রাক-প্রকাশসহ বিধিবদ্ধ প্রক্রিয়ায় মহাপরিকল্পনা থেকে উন্নয়ন প্রকল্প ও স্থানীয় পরিকল্পনা পর্যন্ত একটি পর্যায়ভিত্তিক পরিকল্পনা কাঠামো নির্ধারণ করবে। উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র ছাড়া কোনো নির্মাণ বা প্রকল্প গ্রহণ করা যাবে না।
এ ছাড়া নদী-নালা, জলাশয়, খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণে কঠোর পরিবেশগত বিধিনিষেধ আরোপ, ভূমি পুনর্বিন্যাসে অন্তত ৬০ শতাংশ মালিকের সম্মতি বাধ্যতামূলক করা এবং ভূমি পুনঃউন্নয়নের মতো আধুনিক ভূমি ব্যবস্থাপনা কৌশল আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আইনে অননুমোদিত নির্মাণ, জলাধার ভরাটসহ বিভিন্ন অপরাধের জন্য কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নিজস্ব তহবিল গঠন, উন্নয়ন ফি নির্ধারণ, ঋণ গ্রহণ এবং নিরীক্ষার ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।