হোম > জাতীয়

বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বন্যা: খাদ্য ও পানির সংকটে বাড়ছে ভোগান্তি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ডুবে আছে সড়ক। এর মধ্যেই নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছে মানুষ। গতকাল চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায়। ছবি: এএফপি

বৃষ্টি কমায় বান্দরবান ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে গতকাল শনিবার বন্যার পানি কিছুটা কমেছে। তবে এখনো পানিতে তলিয়ে আছে কয়েক লাখ ঘরবাড়ি। আর দুর্ভোগ আগের মতোই। কোথাও কোথাও তা বরং বেড়েছে। কেননা ঘরে রান্না করার ব্যবস্থা নেই। সপ্তাহখানেক ধরে শুকনো খাবার খেয়েই কাটাতে হচ্ছে পানিবন্দী মানুষকে। এতে কষ্টে আছে বৃদ্ধ ও শিশুরা।

দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও সাতকানিয়ায় মানুষের ভোগান্তি, খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। সেই তুলনায় সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ত্রাণ তৎপরতা একেবারেই অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন দুর্গত এলাকার মানুষ।

মানবেতর জীবন কাটছে পানিবন্দী বাঁশখালী উপজেলার বাহারছাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ইলশা গ্রামের হাজি লস্কর বাড়ির বৃদ্ধ মোহাম্মদ নুরুল করিমের (৬৫)। গতকাল বিকেলে নিজ বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে তিনি জানান, ছয় দিন ধরে তাঁর ঘরের চুলায় আগুন জ্বলেনি। পরিবার-পরিজন নিয়ে মুড়ি, বিস্কুট, কলা খেয়ে দিন পার করেছেন। বাড়িতে টাকাপয়সা না থাকায় বাইরে থেকে তেমন কিছু কিনে আনাও সম্ভব হয়নি। সরকারি-বেসরকারি কোনো ত্রাণও না পেয়ে গতকাল ৭ সন্তান ও স্ত্রীকে আশ্রয়কেন্দ্রে রেখে এসেছেন বলেও জানান এই বৃদ্ধ।

একই এলাকার পারভিন আক্তার বলেন, ‘আমাদের কিছু নাই। সব ভেসে গেছে পানিতে। ধান, চাল, টাকা, গরু-ছাগল, হাস-মুরগি তো গেছেই, পরনের আর কাপড়ও নাই।’

এই বিষয়ে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, ‘প্রতিদিন সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে। আমার মনে হয়, ত্রাণ পাওয়া থেকে কেউ বাদ পড়েছে। যদিও কেউ বাদ পড়ে থাকে, তাকে শিগগির ত্রাণের ব্যবস্থা করা হবে।’

অন্যদিকে সাতকানিয়ায় এখনো চার লাখের মতো মানুষ পানিবন্দী। ক্ষতিগ্রস্ত ঢেমশা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর ঢেমশা শাহ মোহছেনপাড়ার বাসিন্দা মৃত আব্দুল মাবুদের ছেলে আব্দুল হালিম। তিনি একটি বিস্কুট কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি (এসআর)। গতকাল সরেজমিনে গেলে তিনি বলেন, ‘আমার চার মেয়ে ও এক ছেলে। গত ছয় দিন খাটের ওপর শুয়ে-বসে দিনরাত কাটিয়েছি। ঘরে যে শুকনা খাবার ছিল, তা অনেক আগে শেষ হয়ে গেছে। বাড়ির পাশের লোকজন কিছু চিড়া, মুড়ি ও গুড় দিয়েছে। তা দিয়ে আপাতত ক্ষুধা নিবারণ করছি। এক ব্যক্তি কিছু রান্না করা খাবারও দিয়েছিল। এখন পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি কোনো ত্রাণ বা সহায়তা পাইনি।’

হালিমের মতো আরও অনেকে একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন সাতকানিয়ায়।

সাতকানিয়ার ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, পানিবন্দী মানুষের মাঝে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। অসহায় মানুষদের উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে সাতকানিয়া ও বাঁশখালীর অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। চার্জ দিতে না পারায় মোবাইলে আত্মীয়স্বজন ও প্রবাসীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং আর্থিক লেনদেনও করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চন্দনাইশ উপজেলার হাশিমপুর ইউনিয়নের বড় পাড়া থেকে শুরু করে দোহাজারী পৌরসভার পাঠানি ব্রিজ সোনার বটতল এলাকা পর্যন্ত সড়কের ওপর হাঁটুপানি থইথই করছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে চলছে দূরপাল্লার যানবাহন।

চন্দনাইশের ইউএনও মো. আবদুর রহমান জানিয়েছেন, উপজেলার বন্যাদুর্গতদের জন্য ২৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ইতোমধ্যে সহস্রাধিক প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে এবং ২টি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়নে ১০০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

ফটিকছড়িতে সেনাবাহিনীর তৎপরতা

সেনাবাহিনীর গুইমারা রিজিওনের অধীন লক্ষ্মীছড়ি জোনের উদ্যোগে গতকাল ফটিকছড়ি উপজেলার সুন্দরপুর, হারুয়ালছড়ি ও আশপাশের বন্যাকবলিত এলাকায় জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। শুরুতে নৌযান ও বিভিন্ন উপায়ে দুর্গম এলাকায় পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো চিহ্নিত করা হয়, পরে পানিবন্দী পরিবারের মাঝে দৈনন্দিন অপরিহার্য সামগ্রীর প্রয়োজন মেটাতে চাল, ডাল, তেল, লবণ, শুকনা খাদ্যসহ ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

কক্সবাজারে কিছুটা উন্নতি

কক্সবাজারে টানা বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি গতকাল কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এর মধ্যে গতকাল সকালে ঈদগাঁও উপজেলার ফুলেশ্বরী খাল থেকে ঢলের পানিতে ভেসে যাওয়া সাজিদুল ইসলাম নামের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় পাহাড়ধস, পানিতে ভেসে এবং দেয়ালচাপা পড়ে অন্তত ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে বঙ্গোপসাগরে রৈরী আবহাওয়া কেটে যাওয়ায় কক্সবাজারসহ দেশের চার সমুদ্রবন্দরের সংকেত নামিয়ে ফেলা হয়েছে। এর ফলে সেন্ট মার্টিন ও মহেশখালীর নৌরুটে নৌচলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

চার দিন ধরে রেলপথে পানি ওঠায় দেশের প্রধান পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রামের রেলযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। কক্সবাজার বিমানবন্দরেও বিমান ওঠানামা অর্ধেকে নেমে এসেছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও পটিয়ায় পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবাহিত হওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে।

বান্দরবানে অবনতি

বান্দরবানের বিভিন্ন উপজেলায় শুক্রবার পানি কমলে শনিবার সকাল থেকে পানি বাড়ার কারণে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ফলে জেলার সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বান্দরবান সদর উপজেলার কালাঘাটা, কাসেমপাড়া, মেম্বারপাড়া, ইসলামপুর, বনরূপাপাড়া, হাফেজঘোনা, বাসস্টেশন এলাকা, ক্যাচিংঘাটা, নোয়াপাড়া, শেরেবাংলা নগরসহ বিভিন্ন এলাকায় শুক্রবারের চেয়ে শনিবার দুপুর পর্যন্ত ৭ ফুট পানি বেড়েছে। তবে এখনো জেলার সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও বাঁকখালী নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে রুমা, লামা, বান্দরবানের সব নদীপথের নৌ-যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

বান্দরবানে আটকে পড়া ১২২টি পরিবারকে উদ্ধার করেছে বিজিবি। পরে তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়।

কুড়িগ্রামসহ ৫ জেলায় আবার বন্যার পূর্বাভাস

উজানের ঢল ও বৃ‌ষ্টিপা‌তে ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার ও তিস্তা নদ-নদীর পানি বেড়ে কু‌ড়িগ্রা‌মসহ রংপু‌রের পাঁচ জেলায় নিম্নাঞ্চলে আবার স্বল্প‌মেয়া‌দি বন‌্যার পূর্বাভাস দি‌য়ে‌ছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

গতকাল দুপুরে দেওয়া এক পূর্বাভাস বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। পাউবো কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রাঙামাটি-বান্দরবান সড়কে ব্রিজঘাট সেতু ধস

টানা কয়েক দিনের অতিরিক্ত ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে রাঙামাটি-বান্দরবান সড়কের চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের সুখবিলাস দুধপুকুরিয়া এলাকার রাবার ড্যামের বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। এতে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে।

১৬ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিভাগের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা স্থগিত

বৈরী আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন সব জেলার উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। গতকাল রাতে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এবং ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা যায়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৭ নির্দেশনা, ছুটি বাতিলেরও ইঙ্গিত

দেশের চলমান বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা সচল রাখতে সাত দফা জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বন্যাকবলিত এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে চিকিৎসক, নার্স, অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর ছুটি বাতিলসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত একটি চিঠি দেশের সব বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য), সিভিল সার্জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

[প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিরা]

অবশেষে চালুর পথে ট্রাক চালকদের চার বিশ্রামাগার

নারী বিষয়ক ওআইসি সম্মেলনে যোগ দিতে ইসলামাবাদে মন্ত্রী জাহিদ

ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট প্রতিরোধ না করলে দেশ ‘এখনো পাকিস্তান থাকত’: স্পিকার

১২-২০ গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য রেশন চালুর উদ্যোগ, কী থাকছে এতে

গাড়ি চালিয়ে ঢাকা মেডিকেলে প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তুললেন সেলফি

ঢাকা মেডিকেলের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন

মোবাইল ফোনসেট নিবন্ধন: চালুর ছয় মাসেও পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হয়নি এনইআইআর

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র: রূপপুরে দুই মাস ধরে সূক্ষ্ম পরীক্ষা-নিরীক্ষা

পাহাড়ধসে প্রতিবছর গড়ে ২৫ জনের মৃত্যু, কারণ অজানা নয়

শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে আদালতের নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ: তথ্য মন্ত্রণালয়