পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের নৌপথে যাত্রী চলাচল উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। ২০২২ সালে পর থেকে ক্রমশ বাড়ছে সড়ক পথে যাতায়াত। তবে আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে লঞ্চের কেবিন টিকিটের চাহিদা এখনো অনেক বলে জানিয়েছে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ। এমন পরিস্থিতিতে চাহিদার তীব্রতার ওপর বিশেষ লঞ্চ চালুর ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তারা।
আজ বৃহস্পতিবার ও গতকাল বুধবার রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, বাড়ি ফেরা যাত্রীর সংখ্যা এখনো তুলনামূলক কম। বেশির ভাগ পন্টুনে যাত্রী উপস্থিতি কম থাকায় অনেকটা ফাঁকা পরিবেশ। যাত্রী সংখ্যা কম হলেও ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে কেবিন টিকিটের চাহিদা বেশ তুঙ্গে। বেশির ভাগ লঞ্চের কেবিন টিকিট যাত্রার অন্তত চার ঘণ্টা আগেই বুকিং হয়ে যায়।
লঞ্চ মালিকেরা জানান, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে সড়কপথে দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠায় অনেক যাত্রী এখন বাসে ভ্রমণ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। ফলে আগের বছরের তুলনায় ডেক যাত্রীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তবে আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য অনেকেই এখনো কেবিনে যাতায়াত করতে আগ্রহী।
বর্তমানে একটি সিঙ্গেল কেবিনের ভাড়া ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা এবং ডাবল কেবিনের ভাড়া ৩০০০ থেকে ৩৫০০ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
যাত্রাবাড়ীতে ব্যবসা করেন সজল হোসেন। চাঁদপুর যাওয়ার উদ্দেশে সদরঘাটে এসে তিনি বলেন, ‘আমার মা অনেক অসুস্থ। তাই কেবিন ভাড়া করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এসে দেখি কোনো কেবিন নেই। আগামী দুই-তিন দিন পর্যন্ত নাকি সব বুকড হয়ে গেছে। এখন ভাবছি বাসে যাব।’
বরিশালগামী যাত্রী রুনা আক্তার বলেন, ‘আগে থেকেই লঞ্চে যাতায়াতের অভ্যাস। বাসের তুলনায় এটা অনেক আরামদায়ক। পরিবার নিয়ে যাচ্ছি, তাই একটি ডাবল কেবিন নিয়েছি।’
সুন্দরবন-১৬ লঞ্চের ম্যানেজার মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘ডেকে যাত্রী কম থাকলেও সব কেবিন বুক হয়ে গেছে। আগামী দুই-তিন দিন কোনো কেবিন ফাঁকা নেই।’
তাসরিফ-৩ লঞ্চের কর্মী ইবাদত বলেন, ‘ঈদকে সামনে রেখে কেবিনের আগাম বুকিং শুরু হয়েছে। কেবিনের চাহিদা সব সময় বেশি থাকে। এখন যাত্রী কম থাকলেও ঈদের দুই-তিন দিন আগে চাপ অনেক বেড়ে যাবে।’
এ বিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মুহাম্মদ মোবারক হোসেন বলেন, ‘ঈদযাত্রাকে সামনে রেখে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। ঈদের দুই-তিন দিন আগে যাত্রী চাপ বেড়ে গেলে বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস চালু করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ রাখতে কঠোর নজরদারি থাকবে।’