সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে বিষয়ে উভয় দেশকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ বিষয়ে নিয়মিত বৈঠক চালিয়ে যেতে ভারতীয় হাইকমিশনারকে অনুরোধ করেছেন তিনি। আজ রোববার দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা জানান।
সাংবাদিকেরা জানতে চান, ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাতে কী আলোচনা হয়েছে? জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতীয় হাইকমিশনার সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন। নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে সংশ্লিষ্ট দেশের হাইকমিশনারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা কূটনৈতিক রীতি। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, যাতায়াত, নিরাপত্তা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা বিভিন্ন বিষয়ে পারস্পরিক স্বার্থ জড়িত। এসব বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়েছে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘উভয় দেশের সম্পর্ক সার্বভৌম সমতা ও পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে বজায় থাকবে এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে। যোগাযোগ অব্যাহত রাখলে অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বিশেষ করে সীমান্ত ইস্যুতে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হয়েছে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সীমান্ত হত্যার বিষয়ে যেন আমাদের আর শুনতে না হয়—এ বিষয়ে আমরা সব সময় সতর্ক থাকব। বিজিবি ও বিএসএফ নিয়মিত বৈঠক অব্যাহত রাখবে, যাতে যতটুকু সম্ভব এ ধরনের ঘটনা এড়ানো যায়।’ তিনি জানান, ভারতীয় পক্ষও এ বিষয়ে আন্তরিক থাকার আশ্বাস দিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে।
ভারতের টুরিস্ট ভিসা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘গত এক-দেড় বছরে তাদের ভিসা অফিসগুলো আক্রান্ত হওয়ায় কার্যক্রম পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে ভারতীয় পক্ষ ধারাবাহিকভাবে টুরিস্ট ভিসা চালুর আশ্বাস দিয়েছে।’
গত দেড় বছরে অন্তর্বর্তী সরকার প্রায় ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করেছে। এসব অধ্যাদেশ নতুন সরকার কীভাবে মূল্যায়ন করবে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘সাংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই অধ্যাদেশগুলো উপস্থাপন করা হবে। কোনগুলো হুবহু গৃহীত হবে, কোনগুলো সংশোধনীসহ পাশ হবে বা কোনগুলো আর প্রয়োজন হবে না তা সংসদেই নির্ধারিত হবে।’ আইন মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে বলেও তিনি জানান।