অন্তর্বর্তী সরকারের নৌপরিবহন উপদেষ্টার দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন অঞ্চলে ৩০টির বেশি লঞ্চঘাট নির্মাণ, ৫০টির বেশি পন্টুন স্থাপন এবং কয়েকটি নতুন রুটে ফেরি সার্ভিস চালুসহ বিভিন্ন কাজ তুলে ধরলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিকায়নমূলক সিদ্ধান্তের ফলে দেশের নৌ খাত এখন একটি শক্তিশালী, নিরাপদ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন খাতে রূপান্তরিত হচ্ছে।
সচিবালয়ে গতকাল মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে গত ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সামগ্রিক কার্যক্রম ও অর্জন তুলে ধরেন সাখাওয়াত হোসেন। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়েরও উপদেষ্টা তিনি। এর আগে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এবং পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রামের লালদিয়া এলাকায় পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ মডেলে নেদারল্যান্ডসভিত্তিক এপিএম টার্মিনালের সহায়তায় লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়। ৩৩ বছর মেয়াদি এই টার্মিনাল ২০২৯ সালে কার্যক্রম শুরু করবে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে বন্দরের রাজস্ব আয় হয়েছে ২,৩৭৮.৭৭ কোটি টাকা, ব্যয় ৮৩৭.৯৯ কোটি টাকা এবং উদ্বৃত্ত ১,৫৪০.০৮ কোটি টাকা। কনটেইনার, কার্গো ও জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে এবং ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে সর্বকালের সর্বোচ্চ কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে।
নৌপরিবহন উপদেষ্টা জানান, মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেলে সংরক্ষণ ড্রেজিং প্রকল্প একনেকে অনুমোদনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের নাব্যতা-সংকট নিরসনের পথ সুগম হয়েছে। পায়রা বন্দরে দেশি ও বিদেশি জাহাজ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের মাধ্যমে রাজস্ব আয় বেড়েছে। বিআইডব্লিউটিসি ও বিআইডব্লিউটিএর উদ্যোগে কুতুবদিয়া, হাতিয়া, মহেশখালী, ভাসানচর ও অন্যান্য দ্বীপাঞ্চলে সি-ট্রাক ও ফেরি সার্ভিস চালু হওয়ায় দুর্গম এলাকার জনগণের যাতায়াত নিরাপদ, সহজ ও সময়সাশ্রয়ী হয়েছে। নতুন লঞ্চঘাট, পন্টুন ও জেটি স্থাপনের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ নৌপথে যোগাযোগব্যবস্থায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে।