ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জিতে অনেক নতুন মুখ চমক দেখালেও অনেক বর্ষীয়ান রাজনীতিক এবং সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয় বেশকিছু প্রার্থী ভোটের লড়াইয়ে পরাজয় বরণ করেছেন। পরাজিতদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির সৈয়দ ফয়জুল করিম, জামায়াতে ইসলামীর মহাসচিব মিয়া গোলাম পরওয়ার, বিএনপির প্রার্থী তারকা ফুটবলার আমিনুল হক ও জামায়াতের সাবেক সংসদ সদস্যসহ আরও অনেকে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিনভর ভোট গ্রহণ শেষে রাতের প্রথম ভাগ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে জয়-পরাজয়ের বিভেদ রেখা স্পষ্ট হতে থাকে। এক পর্যায়ে বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী ও পরাজিত প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রাপ্ত ভোটের হিসাব প্রকাশ করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা।
জামায়াতের পুরোনো এমপিদের অন্যতম এবং দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার খুলনা-৫ আসনে বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ আলী আসগর লবির কাছে হেরেছেন। প্রাথমিক ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আলী আসগর লবি এক লাখ ৪৮ হাজার ৮৫৪ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মিয়া গোলাম পরওয়ার পেয়েছেন এক লাখ ৪৬ হাজার ২৪৬ ভোট। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোটের হয়ে করা নির্বাচনে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন গোলাম পরওয়ার।
কক্সবাজার-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ কাছে পরাজিত হয়েছেন জামায়াতের আরেক আলোচিত প্রার্থী দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। প্রাথমিক ফলাফলে ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৪৩ ভোট পেয়েছেন বিএনপির মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ আর জামায়াতের আযাদ পেয়েছেন ৯১ হাজার ৮৮৯ ভোট। নবম সংসদে বিএনপি জামায়াত জোটের হাতেগোনা কয়েকজন সংসদ সদস্যদের একজন ছিলেন আযাদ।
এবারের নির্বাচনে তাঁর পরাজয়ের প্রথম ধাক্কা আসে হলফনামায় মামলার তথ্যে ঘাটতি থাকার কারণে। রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রাথমিক যাচাইয়ে তাঁর প্রার্থিতা বাতিল করলেও আপিল করে তিনি তা ফেরত পান।
বরিশাল-৫ ও ৬ দুই আসনেই বিএনপি প্রার্থীর কাছে হেরেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির এবং হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম চরমোনাই পীর।
বরিশাল-৫ আসনে বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ধানের শীষের প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার পেয়েছেন ১ লাখ ৩১ হাজার ৪৩১ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি ফয়জুল করীম পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৫২৮ ভোট। অন্যদিকে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এবং বরিশাল জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হোসেন খান পেয়েছেন ৮১ হাজার ৮৭ ভোট। দ্বিতীয় হয়েছেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ মাহমুদুন্নবি। তিনি পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৫৩৩ ভোট। হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি ফয়জুল করীম পেয়েছেন ২৮ হাজার ৮২৩ ভোট।
১০ দলীয় জোটে থাকা খেলাফত মজলিশের আমির মামুনুল হক ও এবি পার্টির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মজিবুর রহমান ভূঁঞা পরাজিত হয়েছেন। ফেনী-২ আসন থেকে তিনি দলীয় ঈগল প্রতীকে পেয়েছেন ৮০ হাজার ৫৮ ভোট। এই আসনে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপি প্রার্থী জয়নাল আবদিন এক লাখ ৩১ হাজার ২১০ ভোট পেয়েছেন। আর ঢাকা-১৩ আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থী মামুনুল হক রিক্সা প্রতীকে ৮৬ হাজার ০৬৭ ভোট। এই আসনে ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে ববি হাজ্জাজ পেয়েছেন ৮৮ হাজার ৩৮৭ ভোট।
একই সঙ্গে ফেসবুকে ব্যাপক আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা নির্বাচনী দৌড়ে তৃতীয় হয়েছেন। ঢাকা-৯ আসনে বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রশিদ পেয়েছেন এক লাখ ১১ হাজার ২১২ ভোট, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির মোহাম্মদ জাবেদ মিয়া ৫৩ হাজার ৪৬০ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন। আর তাসনিম জারা পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৬৮৪ ভোট।
জারার পাশেই ঢাকা-৮ আসনে পুরো নির্বাচনী সময় জুড়ে প্রচার প্রচারণায় শোরগোল বাঁধিয়ে দেওয়া এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বিএনপির সিনিয়র নেতা মির্জা আব্বাসের কাছে ৫ হাজার ভোটে হেরেছেন। মির্জা আব্বাস পেয়েছেন ৫৯ হাজার ৩৬৬ ভোট আর নাসীর পেয়েছেন ৫৪ হাজার ১২৭ টি।