স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশ বর্তমানে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক—উভয় ক্ষেত্রেই বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। বৈশ্বিক অস্থিরতা, বিশেষ করে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবের পাশাপাশি অতীতের অর্থনৈতিক লুটপাট ও অর্থ পাচারের কারণে দেশ কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
আজ শুক্রবার সকাল ৯টায় ঢাকা ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স আয়োজিত বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে এবং জনগণের বিপুল সমর্থনে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। সরকার এখন অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার, রাজনৈতিক কাঠামো পুনর্গঠন এবং জনগণের দেওয়া নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ করছে।
তিনি জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রণীত ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কারের লক্ষ্যে সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।
দেশে বর্তমানে বেকারত্ব, বিনিয়োগের ঘাটতি এবং দুর্বল ব্যাংকিং ব্যবস্থা বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। এসব সমস্যা মোকাবিলায় সরকার গ্রামীণ অর্থনীতিতে মূলধন প্রবাহ বৃদ্ধি এবং অন্যান্য উন্নয়নমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, নতুন বাজেটে শিল্পায়নকে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন কর ও শুল্কে ছাড় দেওয়া হয়েছে এবং কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সৃজনশীল অর্থনীতিকে জাতীয় অর্থনীতির অংশ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার উদার গণতন্ত্র, অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী। এ লক্ষ্যেই সংসদে সাঁওতাল, মারমা ও চাকমা জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে।
আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে গতি আনতে সরকার কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বক্তব্যের শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বাংলাদেশের মানুষ সংগ্রামী ও সহনশীল। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি শোষণমুক্ত, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
বিএনপির এই নেতা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের শহীদ এবং ২০২৪ সালের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মালদ্বীপের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ জিহাদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ বি এম ওবাইদুল ইসলাম।
স্বাগত বক্তব্য দেন সোয়াস ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মোস্তাক খান।