জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেছেন, ভোটের পরিবেশ সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক থাকলে শেষ পর্যন্ত আমি ও আমার দল লড়াই করতে চাই। এখন পর্যন্ত নির্বাচনী পরিবেশ শান্ত ও সু-শৃঙ্খল রয়েছে। ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেন্দ্রে আসছেন এবং ভোট কাস্টিংয়ের চিত্রও সন্তোষজনক। তবে নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাবিত করার চেষ্টা হলে দলের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে উপজেলার বামনডাঙা ইউনিয়নের ফলগাছা ড. এম আই পাটোয়ারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
জাপা মহাসচিব বলেন, নির্বাচন যদি সত্যিকার অর্থে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়, তাহলে জাতীয় পার্টি বিপুল ভোটে জয়ী হবে। ভোট সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় থাকলে শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকব। জনগণের ভোটের মাধ্যমে যে রায় দেবেন, আমরা তা সম্মানের সঙ্গে মেনে নেব।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, গতকাল রাত থেকেই একটি মহল হিন্দু সম্প্রদায় ও সাধারণ ভোটারদের নানাভাবে হুমকি দিয়ে নির্বাচন প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। অনেক এলাকায় হিন্দু ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। কিছু ভোটারকে বলা হচ্ছে কেন্দ্রে গেলে গ্রেপ্তার করা হবে। এমনকি আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে পরিচিত ভোটারদেরও গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। এ ধরনের তৎপরতা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক এবং গণতন্ত্রের চেতনার পরিপন্থী।
শামীম হায়দার পাটোয়ারী আরও বলেন, ভোটের অধিকার জনগণের মৌলিক অধিকার। ভয়ভীতি দেখিয়ে কাউকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নির্বাচন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হলে জাতীয় পার্টি তা কঠোরভাবে প্রতিহত করবে। ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং, ম্যানুফ্যাকচারড বা আগেই প্রস্তুত করা নির্বাচনের কোনো আলামত দেখা গেলে দলগতভাবে কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রশাসন ও নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে পাটওয়ারী বলেন, সব নাগরিক যেন নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। কোথাও কারচুপি বা অনিয়মের অভিযোগ উঠলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে, নইলে জনগণের আস্থা নষ্ট হবে।
জাপা মহাসচিব বলেন, ভোটাররা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পারলে জাতীয় পার্টির প্রতি জনসমর্থনের প্রতিফলন ঘটবে। দলের নেতা–কর্মীদের ধৈর্য ধরে মাঠে থাকার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, কোনো উসকানিতে পা দেওয়া যাবে না, তবে অন্যায় হলে আইনি ও রাজনৈতিকভাবে জবাব দেওয়া হবে।
ভোটে কোনো রকম কারচুপি বা বাধা দেওয়া হলে দলের চেয়ারম্যানসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে জাতীয় পার্টি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে থাকবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন শামীম হায়দার পাটোয়ারী।