হোম > জাতীয়

ধানের শীষকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সংসদে বিএনপির ৭ ‘বিদ্রোহী’

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

(ওপরে বাঁ থেকে) রুমিন ফারহানা, শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল, লুৎফর রহমান খান আজাদ, আব্দুল হান্নান, (নিচে বাঁ থেকে) আতিকুল আলম শাওন, সালমান ওমর রুবেল, রেজওয়ানুল হক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে এক অভাবনীয় চিত্র ফুটে উঠেছে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে এবং ‘ধানের শীষ’ প্রতীক না পেয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে লড়াই করা বিএনপির সাতজন ‘বিদ্রোহী’ নেতা বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। দলের মূল স্রোতের প্রার্থীদের পরাজিত করে তাঁরা এখন সংসদে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির এই অভিমানী নেতাদের বিজয় দলটির জন্য যেমন স্বস্তির, তেমনি অস্বস্তিরও। কারণ, এসব প্রার্থীকে দমাতে দল থেকে বহিষ্কারসহ নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভোটাররা দলীয় প্রতীকের চেয়ে ব্যক্তি জনপ্রিয়তাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।

যারা বিজয়ী হলেন

বিজয়ী সাত স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেন:

১. ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২: ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা (বিএনপির সাবেক সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক)

২. কিশোরগঞ্জ-৫: শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল (বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি)

৩. টাঙ্গাইল-৩: লুৎফর রহমান খান আজাদ (সাবেক মন্ত্রী)

৪. চাঁদপুর-৪: আব্দুল হান্নান (উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি)

৫. কুমিল্লা-৭: আতিকুল আলম শাওন (উপজেলা বিএনপি সাবেক সভাপতি)

৬. ময়মনসিংহ-১: সালমান ওমর রুবেল (উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য)

৭. দিনাজপুর-৫: রেজওয়ানুল হক

শরিকদের আসন ও ভোট বিভক্তি

বিএনপির শরিক দলগুলোর জন্য ছেড়ে দেওয়া ১৬টি আসনের মধ্যে ১২টিতেই স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থীরা মাঠে ছিলেন। এর ফলে তৃণমূলের ভোট বিভক্ত হয়ে যায়, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে জোটের প্রার্থীদের ওপর।

আসনভিত্তিক চিত্র:

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২: এই আসনটি জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবকে ছেড়ে দিয়েছিল বিএনপি। কিন্তু সেখানে ধানের শীষ না পেয়ে লড়াইয়ে নামেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এবং বিজয়ী হন।

কিশোরগঞ্জ-৫: এখানে প্রাথমিকভাবে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল মনোনয়ন পেলেও পরে জোটের স্বার্থে সৈয়দ এহসানুল হুদাকে ধানের শীষ দেওয়া হয়। তবে ইকবাল স্বতন্ত্র হিসেবে জয় ছিনিয়ে নেন।

চাঁদপুর-৪: বিএনপির ‘অপ্রতিদ্বন্দ্বী দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত এই আসনে সাবেক এমপি লায়ন হারুনুর রশীদকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন বিদ্রোহী আব্দুল হান্নান।

কুমিল্লা-৭: এলডিপি মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদকে ধানের শীষ দেওয়া হলেও ভোটাররা বেছে নিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিকুল আলম শাওনকে।

ময়মনসিংহ-১: বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের মতো হেভিওয়েট প্রার্থীকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছেন সালমান ওমর রুবেল।

দলের অবস্থান

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে এই বিজয়ীদের প্রত্যেককেই নির্বাচনের আগে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। সারা দেশের অর্ধশতাধিক আসনে বিএনপির প্রায় ৫০ জন নেতা স্বতন্ত্র হিসেবে ভোটযুদ্ধে ছিলেন। যদিও অধিকাংশ জায়গায় তাঁরা পরাজিত হয়েছেন, তবে এই সাতজনের বিজয় সংসদে বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নির্বাচন পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় তৃণমূলের কর্মীদের অনেকেই মনে করেন, যোগ্য প্রার্থীদের মূল্যায়ন না করে জোটের শরিকদের আসন ছেড়ে দেওয়া অনেক ক্ষেত্রে বুমেরাং হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, বিজয়ী এই সাত ‘বিদ্রোহী’র বিষয়ে দল কী সিদ্ধান্ত নেয়।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের গেজেট প্রকাশ নিয়ে যা জানাল ইসি

বিএনপির আসলাম চৌধুরী ও সরোয়ার আলমগীরের ফলাফল স্থগিত

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: হেরে গেলেন যে হেভিওয়েট প্রার্থীরা

তারেক রহমানকে ফোন করে শুভেচ্ছা জানালেন মোদি

তারেক রহমানকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন, সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রতিশ্রুতি

গণভোটে জিতেছে ‘হ্যাঁ’, সংখ্যা জানাল ইসি

২৯৭ আসনের ফল প্রকাশ—বিএনপি জোট ২১২, জামায়াত জোট ৭৭

বাংলাদেশ যেন আর নির্বাচনী ট্রেন থেকে বিচ্যুত না হয়: ইসি সানাউল্লাহ

সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য দেশকে এবং বিশাল জয় পাওয়ায় তারেক রহমানকে পাকিস্তানের অভিনন্দন

ভারত একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের পাশে থাকবে