আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সারা দেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখতে বিদ্যুৎ বিভাগ এবং এর অধীনস্থ সব দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে কঠোর তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঈদের ছুটির সময়েও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিজ নিজ এলাকায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করার কথা বলা হয়েছে এই নির্দেশনায়।
আজ মঙ্গলবার বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে জারি করা এক অফিশিয়াল বার্তায় এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ছুটির সময়ে যে এলাকায় অবস্থান করবেন, সেখানকার বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করে সরাসরি বিদ্যুৎ সচিবের কাছে প্রতিবেদন পাঠাবেন।
সাধারণত ঈদের সময়ে আকস্মিক বিদ্যুৎ বিপর্যয় বা নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকলে গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়। এই অসন্তোষ কমানো এবং গ্রাহকদের আগে থেকেই সচেতন করার জন্য স্থানীয় পর্যায়ে প্রচারের ওপর জোর দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
আকস্মিক কোনো কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলে স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্র থেকে মাইকিং করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাৎক্ষণিক তথ্য শেয়ার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি, স্থানীয় জনগণের কাছে দ্রুত তথ্য পৌঁছাতে অভিনব একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে: স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের মাধ্যমে গ্রাহকদের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি বা সাময়িক বিভ্রাটের বিষয়ে অবহিত করতে হবে। এ কাজের সুবিধার্থে প্রতিটি এলাকার মসজিদের নাম এবং সংশ্লিষ্ট ইমাম ও মুয়াজ্জিনের নাম ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে বিদ্যুৎ বিভাগে পাঠাতে হবে।
একই সঙ্গে এই তথ্যগুলো সংশ্লিষ্ট বিতরণকারী সংস্থা বা কোম্পানির নিজস্ব ওয়েবসাইটেও আপলোড করতে হবে।
ঈদের কেনাকাটার সুবিধার্থে বর্তমানে দোকানপাট ও শপিংমলগুলো রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে ঈদের আমেজ শেষ হওয়ার পরপরই আবারও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পুরোনো নীতিতে ফিরে যাবে দেশ।
বিদ্যুৎ বিভাগের নির্দেশনায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ঈদুল আজহা শেষ হওয়ার পর পুনরায় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দেশের সব দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শপিংমল যথারীতি বন্ধ করতে হবে।