হোম > জাতীয়

পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার রায়

যে কারণে সোহেলের সঙ্গে স্বপ্নারও মৃত্যুদণ্ড

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি স্বপ্না খাতুন। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া সোহেল রানাকে পাঁচ লাখ টাকা ও স্বপ্নাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। আজ রোববার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এই রায় ঘোষণা করেন।

স্বামী সোহেল রানা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে নিজে ভুক্তভোগী শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা এবং দেহ খণ্ডবিখণ্ড করার দায় স্বীকার করলেও এসব কাজে স্ত্রী স্বপ্নার জড়িত থাকার কথা বলেননি। শুধু তাঁকে জানালার গ্রিল কেটে পালাতে সহযোগিতা করার বিষয়টি জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন। তবে ট্রাইব্যুনাল সার্বিকভাবে স্বপ্না খাতুনের অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকেও মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।

যা যা উল্লেখ করা হয় রায় শুনানিতে

ট্রাইব্যুনাল রায়ে বলেছেন, রাষ্ট্রপক্ষ ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণ, দালিলিক সাক্ষ্য, জব্দ করা আলামত, ভুক্তভোগীর সুরতহাল প্রতিবেদন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনসহ অন্যান্য জুডিশিয়াল কাগজপত্র দ্বারা অভিযুক্ত মো. সোহেল রানা ও মোছা. স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে গঠিত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সমর্থ হয়েছে।

রায়ে উল্লেখ করা হয়, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারা মোতাবেক লিপিবদ্ধ করা সাক্ষীদের বক্তব্য, জব্দ তালিকাসমূহ, সুরতহাল প্রতিবেদন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারা মোতাবেক লিপিবদ্ধ করা অভিযুক্ত সোহেল রানার দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, সাক্ষীদের জবানবন্দি ও জেরা, বস্তু প্রদর্শনীসমূহ, মামলার সিডি এবং নথিতে থাকা অন্যান্য কাগজপত্র পর্যালোচনা করা হয়। প্রসিকিউশনপক্ষ ঘটনার তারিখ, সময় ও ঘটনাস্থল সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সমর্থ হয়েছে মর্মে আদালতের কাছে প্রতীয়মান হয়।

অভিযুক্ত সোহেল রানার দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির সঙ্গে মামলায় অন্যান্য সাক্ষীর বক্তব্য, সুরতহাল প্রতিবেদন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং সর্বোপরি তদন্ত প্রতিবেদন সমর্থন, এ ছাড়া সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণে আদালতের কাছে প্রতীয়মান হয় যে, অভিযুক্ত স্বপ্না খাতুন বিগত ১৯ মে সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে বেলা ১১টা ৩০ মিনিটের মধ্যবর্তী সময়ে তাঁর ও আসামি সোহেল রানার ফ্ল্যাটে অবস্থান করছিলেন। এই সময়ে অভিযুক্ত সোহেল রানা ভুক্তভোগী শিশুকে আসামিদ্বয়ের ফ্ল্যাটের বাথরুমের ভেতর ধর্ষণ করেন এবং মৃত মনে করে ভুক্তভোগীকে গলা কেটে হত্যা করার সময় ও লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে ভুক্তভোগীর বাবা-মাসহ অন্য সাক্ষীদের ডাকাডাকি ও অনুরোধ সত্ত্বেও ফ্ল্যাটের দরজা খোলেননি এবং অভিযুক্ত সোহেল রানাকে জানালার গ্রিল কেটে পালানোর পরামর্শ ও দরজা না খুলে তাঁকে সহায়তা করেছেন অর্থাৎ ওই ঘৃণ্য অপরাধে তিনি প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করেছেন।

ট্রাইব্যুনাল রায়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আপিল বিভাগের কয়েকটি সিদ্ধান্ত উল্লেখ করেন। পাশাপাশি ফৌজদারি ব্যবস্থায় প্রচলিত আইন, রীতি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করেন।

রায়ে বলা হয়, অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের ফ্ল্যাট থেকে ভুক্তভোগীর মাথা কাটা লাশ এবং বালতির ভেতর থেকে কাটা মাথা উদ্ধার করার বিষয়টি সাক্ষীদের বক্তব্য থেকে প্রমাণিত। স্বপ্না খাতুনের ওপর আইনি দায়িত্ব ছিল—ভুক্তভোগী নিহত শিশুটি তাঁদের বসবাস করা ফ্ল্যাটে ধর্ষণ ও হত্যা হয়নি প্রমাণ করার, কিন্তু স্বপ্না তা করেননি।

রায় শুনানিতে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত স্বপ্না খাতুন ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে প্রথমত ধর্ষণ, দ্বিতীয়ত হত্যাকাণ্ড, তৃতীয়ত লাশ গুম করার চেষ্টা এবং সর্বোপরি অভিযুক্ত সোহেল রানাকে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যেতে দেওয়ার মাধ্যমে সহায়তা ও অপরাধের সাক্ষ্য-প্রমাণ বিলোপসাধনের অপরাধ করেছেন। আদালতের কাছে এটি সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, ভুক্তভোগীকে ধর্ষণ ও ধর্ষণ-পরবর্তী সময়ে অন্যবিধ কার্যকলাপের মাধ্যমে ভুক্তভোগীর মৃত্যু ঘটানো, সঙ্গে অভিযুক্ত সোহেল রানাকে প্রত্যক্ষভাবে সহায়তায় অভিযুক্ত স্বপ্না খাতুনের জড়িত থাকার বিষয়টি পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য বিশ্লেষণে সম্পূর্ণভাবে প্রমাণিত হয়।

রায়ে আরও বলা হয়, ...ঘটনার দিন ঘটনাস্থলে অভিযুক্ত স্বপ্না খাতুন অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করেন এবং যখন পানি দিয়ে ধুয়ে পরিধেয় বস্ত্রসহ অন্যান্য আলামত বিনষ্ট করা হয়, তখন তা প্রতিরোধ করার জন্য কোনো প্রকার পদক্ষেপ না নিয়ে দরজা খোলার জন্য অনেক চিৎকার-অনুরোধ শোনার পরও দরজা না খুলে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে সহায়তা করেন এবং পরে তাঁর স্বামী সোহেল রানাকে জানালার গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন।

রায়ে আরও উল্লেখ করা হয়, এ মামলার ৯ নম্বর সাক্ষী প্রতিবেশী রাজু তাঁর মোবাইলে সোহেল ও স্বপ্নার বাসার ভিডিও করেন। ভুক্তভোগীকে খুঁজে না পেয়ে যখন সোহেল-স্বপ্নার দরজার লক (গোল) ভেঙে ফেলা হয়, তখন ওই ছিদ্র দিয়ে ভিডিও করেন রাজু। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, স্বপ্না একবার বাথরুমে ঢুকছেন আবার বের হচ্ছেন। এতে বোঝা যায়, বাথরুমে যে ঘটনা ঘটেছে, তার সঙ্গে স্বপ্না প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। এ কারণে স্বপ্নারও অনুকম্পা পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

সাংবাদিক শাকিল-ফারজানার ১০ মামলায় জামিন স্থগিত

কমপক্ষে ৩ মাসের জ্বালানি মজুতের সুপারিশ বিশেষ কমিটির

ঘোড়ার মাংস বিক্রির অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ হাইকোর্টের

সংসদ অনেক কালারফুল দেখা যাচ্ছে: স্পিকার

নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলার শুনানিতে গঠন হচ্ছে পৃথক বেঞ্চ

হাসপাতাল নিজেই আইসিইউতে চলে গেছে: এমপি সানসিলা জেবরিন

পল্লবীর শিশুটির বাবার আস্থা ফিরিয়ে দিতে পেরেছি: সংসদে আইনমন্ত্রী

সন্ত্রাসের পক্ষে কাজ করা সাংবাদিকেরা আইনের ঊর্ধ্বে নয়: সংসদে তথ্য প্রতিমন্ত্রী

গ্যাস-সংকটে সার কারখানা চালু হচ্ছে না: সংসদে শিল্পমন্ত্রী

লোডশেডিং নেই, সাময়িক বিদ্যুৎ-বিভ্রাট থাকতে পারে: সংসদে মন্ত্রী