সরকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল সরবরাহ বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও মাঠ পর্যায়ে ভোগান্তির চিত্র এখনো আগের মতোই। আজ বৃহস্পতিবারও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেশ কিছু ফিলিং স্টেশনে তেল না থাকার চিত্র দেখা গেছে। অন্যদিকে যেসব ফিলিং স্টেশনে তেল আছে সেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে দেখা গেছে যানবাহনকে।
এদিকে সাধারণত সরকারি ছুটির দিন অর্থাৎ শুক্রবার ও শনিবার সরকারি বিপণন কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার ডিপোগুলো বন্ধ থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় তা খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। সরকারের এই সিদ্ধান্ত তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি আরও উন্নত করবে বলে পাম্প সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অন্যদিন প্রতি মোটরসাইকেলে দুই লিটার করে তেল দেওয়া হলেও আজ দেওয়া হচ্ছে ৫ লিটার করে। ফলে আগামী দু’এক দিনের মধ্যে তেলের জন্য গ্রাহকদের দীর্ঘ অপেক্ষার চিত্র বদলে যেতে পারে বলে অনেকে ধারণা করছেন।
খোলা থাকবে পদ্মা-মেঘনা-যমুনার ডিপো
বিপিসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জনগণের চাহিদা মোতাবেক দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে বিদেশ থেকে আমদানি কার্যক্রম চলছে এবং নিয়মিতভাবে পার্সেল দেশে আনা হচ্ছে। পাশাপাশি ডিলারদের সাময়িকভাবে প্রধান স্থাপনা থেকে সারা দেশের সব ডিপোতে নিয়মিতভাবে রেল ওয়াগন/ট্যাংকারের মাধ্যমে তেল পাঠানো হচ্ছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী জ্বালানি তেল সরবরাহ সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সরকারি ছুটির দিন (শুক্রবার ও শনিবার) বিপিসির অধীনস্থ বিপণন কোম্পানিগুলোর প্রধান স্থাপনা/ডিপো খোলা রেখে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হবে।
মাঠে ভোগান্তির চিত্র
ঢাকার ব্যস্ততম এলাকা তেজগাঁও সাতরাস্তার পাশে সিটি ফিলিং স্টেশনে আজ সকাল থেকেই অকটেন ও ডিজেল ছিল না। এই পরিস্থিতিতেও সেখানে বেশ কিছু প্রাইভেটকারকে অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায়।
যোগাযোগ করা হলে এই ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক মুজাহিদুল ইসলাম মিলন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমাদের পাম্পে দিনে ২৭ হাজার লিটার ডিজেল ও ২৭ হাজার লিটার অকটেনের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু সংকট শুরুর পর এখন খুব সামান্য তেল পাচ্ছি। ফলে দিনের বড় অংশ জুড়ে অলস বসে থাকতে হয়। ক্রেতারা এসে তেল না পেয়ে ক্ষোভ ঝাড়েন।’
মুজাহিদুল ইসলাম মিলন বলেন, ‘মঙ্গলবার বিকেলে ১৩ হাজার ৫০০ লিটার অকটেন ও ১৩ হাজার ৫০০ লিটার ডিজেল আসছিল। বুধবার কোনো তেল আসেনি। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে অকটেন নেই। দুপুরের দিকে ডিজেলও শেষ হয়ে গেছে।’ তিনি জানান, আজ বিকেলের মধ্যে ৯ হাজার লিটার করে ডিজেল ও অকটেন আসার কথা ছিল তাঁদের ফিলিং স্টেশনে।
একই পরিস্থিতি তেজগাঁওয়ের সততা ফিলিং স্টেশন, এসআর এন্টারপ্রাইজসহ আরও কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে। তবে ব্যতিক্রম চিত্র দেখা গেছে নাবিস্কো মোড়ের সাউদার্ন ফিলিং স্টেশনে। সেখানে এলপিজি, ডিজেল, অকটেন আছে এবং যানবাহনের দীর্ঘ সারিও দেখা গেছে।
জ্বালানি সংগ্রহে সবচেয়ে লম্বা সারি দেখা গেছে মোটরসাইকেল চালকদের। প্রায় আধ কিলোমিটার দীর্ঘ সারি পাড়ি দিয়ে এক ঘণ্টা অপেক্ষার পর তেল সংগ্রহ করা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘তাও ভালো। এক ঘণ্টা কষ্ট করার পর পাঁচ লিটার তেল পেলাম। তাহলে আগামী ৫ দিন আর পাম্পের ধারেকাছে আসতে হচ্ছে না।’
এদিন মহাখালীর ইউরেকা ফিলিং স্টেশন, সোহাগ ফিলিং স্টেশন, ক্লিন ফুয়েল স্টেশনে পর্যাপ্ত তেল থাকায় সরবরাহ ব্যবস্থা চালু থাকতে দেখা গেছে। চাহিদা অনুযায়ী ৫ লিটার করে তেল সংগ্রহ করতে পেরেছেন বাইকাররা।