হোম > জাতীয়

এলডিসি থেকে টেকসই উত্তরণে আরও ৩ বছর সময় চায় বাংলাদেশ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) একটি উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে বক্তব্য দেন। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বব্যাপী নজিরবিহীন রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামষ্টিক অর্থনৈতিক সংকট ও পরিবেশগত বিরূপ অভিঘাতের মুখে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে চূড়ান্ত উত্তরণের প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বাড়িয়ে ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত করার জন্য জাতিসংঘের কাছে যৌথভাবে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ ও নেপাল। টেকসই উন্নয়ন ও সফল উত্তরণ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার সংস্কার, সাশ্রয়ী রেয়াতি অর্থায়ন বৃদ্ধি এবং জলবায়ু তহবিল সহজলভ্য করারও দাবি জানানো হয়েছে।

সোমবার (১৩ জুলাই, ২০২৬) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্কে এলডিসি গ্রুপের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার সময় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাব পেশ করা হয়।

জাতিসংঘের এই উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে এলডিসি গ্রুপের পক্ষে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের সময়সীমা ঘনিয়ে এলেও বিশ্ব এখনো কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে স্বল্পোন্নত দেশগুলো বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাব, ক্রমবর্ধমান ঋণের বোঝা, সীমিত অভ্যন্তরীণ রাজস্ব ক্ষমতা, সরকারি উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ) হ্রাস এবং তীব্র ডিজিটাল বৈষম্যের মতো বহুমাত্রিক ও জটিল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। এই সংকটগুলো শুধু এসডিজি অর্জনের পথকেই বাধাগ্রস্ত করছে না, বরং ২০৩১ সালের মধ্যে বেশির ভাগ এলডিসিভুক্ত দেশকে স্থায়ীভাবে উত্তরণের লক্ষ্য নিয়ে নেওয়া দোহা কর্মসূচির বাস্তবায়নকেও অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের মতো বিশ্বের ১৪টি দেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে, যাদের জন্য এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক মহলের ধারাবাহিক নীতিগত ও আর্থিক সহযোগিতা জরুরি।

উপদেষ্টা ড. তিতুমীর বলেন, বাংলাদেশ ও নেপাল যে অতিরিক্ত তিন বছর সময় বৃদ্ধির আবেদন করেছে, তাকে কোনোভাবেই উত্তরণ প্রক্রিয়ার বিলম্ব হিসেবে দেখা উচিত হবে না। বরং এটিকে দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি (এসটিএস) কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন এবং প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার সম্পন্ন করার একটি কৌশলগত ও বাস্তবসম্মত সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। আগামী বছর কাতারে অনুষ্ঠিতব্য দোহা কর্মসূচির মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনাকে এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর জন্য একটি বড় সুযোগ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি সেখানে বিশ্বনেতা, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান, যাতে সম্মেলন থেকে বাস্তবমুখী ও ফলপ্রসূ সিদ্ধান্ত আসে।

এলডিসি গ্রুপের পক্ষ থেকে বৈশ্বিক উন্নয়নের জন্য পাঁচটি প্রধান অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি বিশ্বদরবারে তুলে ধরা হয়। এই কর্মসূচির মূল বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ঋণঝুঁকি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত ও সহজ শর্তে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ নিশ্চিত করা; শিক্ষা, স্বাস্থ্য, উৎপাদনশীল খাত এবং জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো গঠনে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা; এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোর আমূল সংস্কারের মাধ্যমে এলডিসিগুলোর জন্য ন্যায্য অর্থায়নের সুযোগ সৃষ্টি করা। একই সঙ্গে উন্নত দেশগুলোকে সংরক্ষণবাদী বাণিজ্যনীতি পরিহার করে এলডিসিগুলোর বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণের পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতি তহবিলে (লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড) কার্যকর অর্থায়নের তাগিদ দেওয়া হয়।

উপদেষ্টা আরও বলেন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও প্রযুক্তি হস্তান্তর বৃদ্ধি ছাড়া এলডিসিগুলোর পক্ষে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সুফল ঘরে তোলা সম্ভব নয়। পরিশেষে, ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, এলডিসিগুলোর বর্তমান সংকট আসলে আন্তর্জাতিক সংহতি এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার কার্যকারিতার একটি বড় পরীক্ষা; তাই দোহা কর্মসূচির মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনা যেন কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থেকে বৈশ্বিক আস্থা পুনর্গঠন এবং কাউকে পিছিয়ে না রেখে টেকসই উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে, সে জন্য সব অংশীদারকে একযোগে কাজ করতে হবে।

আইএমইডির প্রতিবেদন: সেচ প্রকল্পের খাদে খাদে রাজ্যের অনিয়ম

উন্নয়ন মানে শুধু রাস্তা-ঘাট নির্মাণ নয়, স্বাস্থ্য-শিক্ষা-জীবনমানও গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী

মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত আরও ছয়টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি

‘প্রশ্নের উত্তর আসছে না’, তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রীকে থামালেন ডেপুটি স্পিকার

সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ খরচ অর্ধেক কমছে

সংবিধান সংশোধনে সংসদে বিশেষ কমিটি গঠন, বিরোধী দলের ওয়াকআউট

ধর্ম-বর্ণ-নি‌র্বিশে‌ষে সবাই মি‌লে স্বৈরাচার‌কে হটি‌য়ে‌ছে: বৃক্ষ‌রোপণ কর্মসূচি‌তে প্রধানমন্ত্রী

সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা নিয়ে আপিল বিভাগে শুনানি ১৯ জুলাই

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের কমিটি

সেতুর টোল মওকুফ না করার ইঙ্গিত সড়কমন্ত্রীর