লিবিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মীদের বৈধকরণ সহজ করতে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সাধারণ ক্ষমা বা বিশেষ সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব জানিয়েছেন লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ। গত রোববার (১৯ এপ্রিল) লিবিয়ার উপশ্রমমন্ত্রী জামাল শাবানের সঙ্গে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে তিনি এই আহ্বান জানান।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে শ্রম খাতে সহযোগিতা জোরদার, বাংলাদেশি কর্মীদের সুরক্ষা এবং আকামা (বাসস্থান অনুমতি) প্রক্রিয়া সহজীকরণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। লিবিয়ার শ্রম মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের পরিচালক এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রদূত বৈঠকে বলেন, লিবিয়ায় বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি বিভিন্ন খাতে কর্মরত থাকলেও তাঁদের অনেকেই বৈধতার জটিলতায় ভুগছেন। উচ্চ ফি, কর ও জরিমানা বৈধকরণের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অবস্থায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করলে বিপুলসংখ্যক কর্মী বৈধতার আওতায় আসতে পারবেন।
জবাবে উপশ্রমমন্ত্রী জামাল শাবান বলেন, বাংলাদেশি কর্মীরা লিবিয়ার শ্রমবাজারের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। শ্রমবাজারকে আরও সুশৃঙ্খল ও প্রাতিষ্ঠানিক করতে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশি কর্মীদের একটি সমন্বিত ডেটাবেইস তৈরির উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন।
বৈঠকে সমঝোতা স্মারকের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে যৌথ কমিটি গঠনের বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়। এ ছাড়া শ্রমিক প্রবেশপ্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ, আইন মেনে চলা এবং শ্রমবাজার ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়।
রাষ্ট্রদূত বৈঠকে বাংলাদেশি নাগরিকদের অপহরণ ও নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণে লিবিয়া কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন। পাশাপাশি অনিয়মিত অভিবাসন রোধে দুই দেশের সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।
বৈঠকের শেষে বাংলাদেশ ও লিবিয়ার মধ্যে শ্রম ও জনশক্তি খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।