নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সীমানাপ্রাচীর ঝুঁকিপূর্ণ, আবাসিক ভবন জরাজীর্ণ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম অকার্যকর হয়ে পড়ার অভিযোগ সংসদে তোলার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী, মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী...সো বিজি। আপনার উদ্দেশে বক্তব্য রাখছেন সদস্য, একটু দয়া করে শুনুন।’
জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধিতে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নোটিশের ওপর বক্তব্য দেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলাম।
বক্তব্য শুরুর একপর্যায়ে স্পিকার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী, মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী...সো বিজি। আপনার উদ্দেশে বক্তব্য রাখছেন সদস্য, একটু দয়া করে শুনুন।’
এরপর বিলকিস ইসলাম জানান, তাঁর নোটিশের বিষয় নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সীমানাপ্রাচীর পুনর্নির্মাণ ও সার্বিক উন্নয়ন।
এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বাউন্ডারি ওয়ালটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।’
সীমানাপ্রাচীরের উচ্চতা কম হওয়ায় সন্ধ্যার পর বাইরের লোকজন হাসপাতাল এলাকায় প্রবেশ করে ‘সামাজিক অপকর্মে’ লিপ্ত হয় বলেও অভিযোগ করেন এই সংসদ সদস্য।
এমপি বিলকিস বলেন, এতে হাসপাতালের ভেতরে স্বাস্থ্যসেবাও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। তিনি বলেন, ‘আবাসিক ভবন ও কোয়ার্টারগুলোর অবস্থা এতই জরাজীর্ণ যে সেখানে কেউ বসবাস করে না। অনুপযোগী হয়ে গেছে।’
হাসপাতালের চিকিৎসা সরঞ্জামের অবস্থাও সংসদে তুলে ধরেন এমপি বিলকিস। তিনি বলেন, অটোমেটেড হেমাটোলজি মেশিন ও ডেন্টাল চেয়ার পুরোনো এবং অকার্যকর হয়ে পড়ায় রোগ নির্ণয় ও দন্ত চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির অবকাঠামো উন্নয়ন, সীমানাপ্রাচীর পুনর্নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বিলকিস।
৭১ বিধির নোটিশে সংসদ সদস্যরা জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তবে বিলকিস ইসলামের বক্তব্যের পর এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।