দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের মামলায় অভিযুক্ত বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন। এই অবস্থায় বেনজীর আহমেদকে কীভাবে দেশে ফেরানো হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বন্দী প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকলেও ইন্টারপোলের মাধ্যমে ও দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে কোনো আসামিকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। অবশ্য দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বন্দী প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকলেও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রায় এক যুগ আগে করা দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিবিনিময় চুক্তি বেনজীরকে ফেরানোর পথ খুলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বলেছে, বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতে সোপর্দ করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তর যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে। দুবাইয়ে বাংলাদেশের কনস্যুলেট এ বিষয়ে আমিরাত সরকারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে।
২০১৪ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে তিনটি চুক্তি হয়। এগুলো হলো—নিরাপত্তা সহযোগিতা চুক্তি, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি স্থানান্তর চুক্তি ও ঢাকায় আরব আমিরাতের দূতাবাসের জন্য জমি হস্তান্তর চুক্তি। চুক্তিগুলোয় বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেছিলেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, আরব আমিরাতের পক্ষে স্বাক্ষর করেছিলেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান।
এই তিন চুক্তির মধ্যে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি স্থানান্তর চুক্তির আওতায় আরব আমিরাত দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে পারে। তবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা এই চুক্তির আওতায় পড়বেন না।
চুক্তিটি মূলত করা হয়েছিল আরব আমিরাতের কারাগারে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে। চুক্তির আওতায় দুই দেশ বন্দিবিনিময় করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চুক্তিটি কাজে লাগিয়ে বেনজীরকে দেশে ফেরানো যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে চুক্তির কিছু শর্তে পরিবর্তন আনার প্রয়োজন হবে।
অবশ্য বেনজীরকে ফেরানোর বিষয়ে জাতীয় সংসদে আজ রোববার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ভিন্ন প্রক্রিয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জাতীয় সংসদে বলেছেন, বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গত শুক্রবার (১২ জুন) গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাঁকে খুব শিগগির ফেরত আনা হবে।
মন্ত্রী বলেন, গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ (এক্সট্রাডিশন রিকোয়েস্ট) পাঠাতে হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রত্যর্পণ প্রস্তাব প্রস্তুত ও অনুমোদন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আমিরাত কর্তৃপক্ষের কাছে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাঠাবে। এনসিবি আমিরাতের রাজধানী আবুধাবি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করবে। অতিদ্রুতই বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হবে। তিনি বলেন, প্রত্যর্পণের অনুরোধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মামলার, গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ও তদন্তসংশ্লিষ্ট নথিপত্র পাঠাতে হবে।
উল্লেখ্য, এনসিবি হলো পুলিশ সদর দপ্তরের একটি শাখা, যারা ইন্টারপোলের সঙ্গে যোগাযোগ করে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করা হয়েছিল। ওই রেড নোটিশের মাধ্যমে ইন্টারপোল সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে গ্রেপ্তারের অনুরোধ জানায়। গত শুক্রবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশ ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো আবুধাবি থেকে পাঠানো একটি ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানায়।