আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো.আমিনুল ইসলাম বলেছেন, দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ একসময় সরকার চালাতেন। কোনো কোনো জায়গায় শেখ হাসিনার চেয়েও বেশি পরিচিত ছিলেন। হেন দুষ্কর্ম নেই, যেটা তিনি কর্মজীবনে করেননি। শুধু শাপলা চত্বরের মাস্টারমাইন্ড নয়, তাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ১০টির মতো মামলায় তদন্ত চলছে। প্রত্যেকটার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে।
আজ সোমবার নিজ কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আমরা জানতাম বেনজীর সারা বাংলাদেশকে চালাচ্ছেন, তিনি সরকার চালাতেন। তাঁর ওপরে আর কাউকে মানুষ মনে হতো না। তাঁর যে দম্ভোক্তি, তাঁর যে বডি ল্যাঙ্গুয়েজ সবকিছু মিলে তখন কোনো কোনো জায়গায় শেখ হাসিনার চেয়েও বেশি পরিচিত ছিলেন বেনজীর আহমেদ। তাঁর বিরুদ্ধে শত শত কোটি টাকার সন্ধান পাওয়া যায় দেশে-বিদেশে। এমন কোনো কুকীর্তি নেই যেটা বেনজীর আহমেদ করেননি। তিনি যখন র্যাবের প্রধান ছিলেন তখন গুমের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। চট্টগ্রামের একরাম কমিশনার হত্যাকাণ্ডে তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল। তিনি পুলিশ কমিশনার হিসেবে, র্যাবের প্রধান হিসেবে অসংখ্য হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।’
আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে যে কয়টা বিতর্কিত নির্বাচন হয়েছে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে প্রত্যেকটি নির্বাচনে বেনজীরের বিতর্কিত ভূমিকা ছিল। নানান প্রক্রিয়ায় অবৈধ নির্বাচন করার অন্যতম কারিগর ছিলেন তিনি। বেনজীর আহমেদ এই দেশের গণতন্ত্র নস্যাৎ করার জন্য হাজার হাজার নিরপরাধ মানুষকে বিনা বিচারে হত্যা করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে বলতে হলে আমার তো মনে হয় একদিন লাগবে। তাঁকে বাংলাদেশে আনা হলে আমাদের এই ট্রাইব্যুনালেও তাঁকে আনা হবে। যে মামলা গুলোতে বিচার চলছে সেখানে হাজির করা হবে। যেগুলো তদন্তাধীন আছে সেগুলোতে তাঁকে রিমান্ড নেওয়া হবে এবং জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’
কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় তাঁকে ফেরত আনতে এক মাস সময় লাগতে পারে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর।